আমাদের সংস্কৃতি

0
10

সংস্কৃতি হচ্ছে রাজনীতির মা। অথচ এই সংস্কৃতিই হচ্ছে সবচেয়ে কম গরুত্বপূর্ণ বিষয় রাজনীতির ক্ষেত্রে। দুই একটা ব্যতিক্রম ছাড়া কম গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে সংস্কৃতিমন্ত্রী বানানো হয়, এটা অনেকটা চতুর্থ বিষয়ের মত। নির্ধারিত নম্বরের বেশি পেলে, নম্বর যোগ হবে। আর কম পেলে ফেল করার ভয় নাই।

এরকম একটা অবস্থায় ইউরোপের একটি দেশের নির্বাচনের প্রাক্কালে নতুন গজিয়ে ওঠা চরম বর্ণবাদী জাতীয়তাবাদী রক্ষণশীল দলের নির্বাচনী ইশতেহারে সংস্কৃতির জন্যে বাজেটে বড় রকমের কাটছাঁট করার কথা বলা হয়েছে। ঘটনাক্রমে একটা কর্মসূচিতে ওই দলের দুইজন নেতার সঙ্গে আমার কথা বলার সুযোগ হয়েছিল এ বছরের জুন মাসে। আমি তাদের বলেছিলাম- এমনিতেই সংস্কৃতির জন্যে বরাদ্দ নিতান্তই কম অন্যান্য বিষয়ভিত্তিক খাতগুলোর তুলনায়। আপনারা তারপরও সংস্কৃতির জন্যে বাজেটে বড় রকমের কাটছাঁটের প্রস্তাব করেছেন। তাদের একজনের জবাব ছিল- সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বাজেট বরাদ্দ বেশি হলে প্রগতিশীলরা সুবিধা করে। আমাদের রাজনীতির সঙ্গে যা যায় না। স্বীকাররোক্তিটা সত্য।

বেশিরভাগ কল্যাণ রাষ্ট্র ও আধুনিক গণতান্ত্রিক দেশে সাংস্কৃতি খাতে জাতীয়, আঞ্চলিক ও স্থানীয় সরকার পর্যায়ে মোটামুটিভাবে শতকরা একভাগ বা তার সামান্য বেশি বা কম। সেই কথা ধরে আমার মনে একটা প্রশ্ন জাগে আমাদের বাংলাদেশের জাতীয় বাজেটের শতকরা কত ভাগ সংস্কৃতির জন্যে বরাদ্দ?

পৌরসভা, ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বাজেটের কত ভাগ আমরা সংস্কৃতির জন্যে বরাদ্দ দিয়েছি? কিংবা সংস্কৃতির জন্যে আদৌ কোন বরাদ্দ থাকে কি ওইসব পর্যায়ে। এসব প্রশাসনিক সংস্থাগুলোর ওয়েবসাইট ঘেঁটে এমন কোনও ধারণা পেলাম না, যেখানে সাংস্কৃতিক খাতকে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এই ক্ষেত্রে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় তাদের নির্ধারিত বরাদ্দের বাইরে সাংস্কৃতিক খাতে বরাদ্দ এবং কর্মকা- প্রসারের জন্যে এইসব পর্যায়ে অনুঘটকের কাজ করতে পারে। একটা কথা বলে নিই বড় দালান কোঠা নির্মাণ করলেই সংস্কৃতির জন্যে বড় কাজ হয়ে যায় না। সংস্কৃতির কর্মযজ্ঞে শিশু আবালবৃদ্ধ থেকে শুরু করে ধনী-গরিব দলমত বর্ণ ধর্ম কি আদিবাসী সকলের অংশগ্রহণ ও সমৃদ্ধ হওয়ার অবারিত সুযোগ সৃষ্টি করা।

আমাদের আর্থিক সামর্থ্যের ঘাটতি আছে, এই কথা বলে পার পাবার সময় এখন আর নাই। আমাদের অর্থনীতি মোটামুটি বেশ ফুরফুরে, বাজেটের আকারও বিশাল। সরকারি উদ্যোগে সারাদেশে পাঁচশরও বেশি মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে, পাশাপশি মন্দির ও গির্জাও হোক। আমরা মহাশূন্যে যাচ্ছি, পদ্মায় সেতু করছি, উড়ালপথের পর উড়াল পথ। জাতীয়করণ হচ্ছে শত শত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সরকারি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে; বেসরকারি টেলিভিশনের সংখ্যা শ ছুঁয়ে গেল বুঝি। প্রকারান্তরে আমাদের উপজেলা সদরেই গণগ্রন্থাগার নাই। কয়টা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিজস্ব গ্রন্থাগার আছে? শিল্পকলা একাডেমি নামের যে প্রতিষ্ঠান তার শাখা প্রশাখা দেশব্যাপী ছড়ানো থাকলেও তা কমিউনিটি সেন্টার থেকে বেশি ভূমিকা রেখেছে কি? যার যে কাজ, সে কাজ না করে অন্যের কাজ করে নিজেরে জাহির করার ঝোঁক যদি জাতীয় সংস্কৃতির প্রতিষ্ঠানগুলোও করে তাহলে বাকি সাংস্কৃতির কর্মকাণ্ডের যা হবার তাই হচ্ছে। ঢাকাস্থ শিল্পকলা একাডেমি কিছুদিন আগে পিঠা উৎসব আয়োজন করেছে। পিঠা উৎসবের আয়োজন ঘুড়ি উৎসবের আয়োজন, ঘোড়দৌড়, সাইকেল উৎসব, আচার মেলা, টক শো এরকম বিষয়গুলো পৌরসভা বা নগর সংস্থার উপর ছেড়ে দেওয়াই ভাল, তবে শিল্পকলা একাডেমি যদি এসব ব্যাপারে ভূমিকা রাখতেই চায় তাহলে নগর সংস্থাকে সহযোগিতা করতে পারে।

ঢাকা শহরে এমনিতেই নাটকের জন্যে প্রয়োজনীয় মঞ্চ নাই, নাচের জন্য নাই, সঙ্গীতের জন্যেও মঞ্চ নাই। আছে আমাদের টেলিভিশনের পর টেলিভিশন। সবে ধন শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা। সেটাও বেশির ভাগ সময় অন্যবিধ নানা অনুষ্ঠান আয়োজনে ঢাকা পড়ে থাকে। আমাদের একের পর এক প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সেগুলো রক্ষা করার কার্যকর কোনো নীতিমালা আমাদের নাই, শুধু প্রণোদনার ব্যাপার না, নীতিমালা ও কার্যকর কর্মসূচিও জরুরি।

প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে নাটক এবং চলচ্চিত্র, সাহিত্য ও ভাষা বিভাগ থেকে শতশত ছেলেমেয়ে বের হচ্ছে। তাদের সকলকেই কী প্রশাসন,ব্যবসা আর শিক্ষকতার দিকে ঠেলে দেব? মাধ্যমিক কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে যদি ধর্মশিক্ষা এবং শরীরচর্চার শিক্ষক থাকতে পারে তাহলে সংস্কৃতি চর্চার জন্যে আলাদা বিষয় এবং শিক্ষক থাকবে না কেন? সংস্কৃতি বিষয়টা কি এতটাই ঠুনকো?

বিদেশে আমাদের মিশনগুলোর প্রেস মিনিস্টার, প্রতিরক্ষা মিনিস্টার, লেবার মিনিস্টার এই ধরনের পদ থাকলেও সাংস্কৃতিক আদানপ্রদানের বিষয়াদি দেখাশোনা করার জন্যে আদৌ কোন লোকজন আছে? মিশনগুলোর সক্ষমতা বা আগ্রহ কোনটাই তেমন কোথাও উল্লেখ করার মত না। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদগুলো অকার্যকর থাকার কারণে এই পর্যায়ের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড মোটা দাগেই স্থবির। এসব ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ মঞ্চে আর গণমাধ্যমের সামনে বড় বড় ছবক দিলেও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার ও উৎকর্ষ সাধনে তাদের ভূমিকা খুব একটা যুতসই না। এই প্রেক্ষাপটে আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে জাতীয় পর্যায়ে যারা নিজেদের বড় বড় সংস্কৃতি ব্যক্তিত্ব বলে উপস্থাপন করেন, দুই একজন ব্যতিক্রম ছাড়া বেশিরভাগই, এমন কি খোদ সংস্কৃতি মন্ত্রী সংস্কৃতি ও প্রচার মাধ্যমের ঠিকাদারির সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত।

[X]

একটা কথা মনে পড়ে, সাহিত্য আর সংস্কৃতি যদি বেনিয়াদের দখলে চলে যায় তাহলে সর্বনাশ। এরকম সর্বর্নাশ ঠেকাতে হলে ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা সরকার গঠনের পরে তার মেয়াদের শেষের দিকে তৎকালীন সংসদ সদস্য পান্না কায়সারকে প্রধান করে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর একটা প্রতিবেদন তৈরির ভার দেওয়া হয়েছিল। উনারা চমৎকার একটা প্রতিবেদন তৈরি করেছিলেন। সেই প্রতিবেদনের এক জায়গায় বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর সম্পর্কে চমৎকার কিছু পর্যবেক্ষণ আছে। যা আমাদের দেশের আত্মসম্পদের নিরাপত্তায় কাজে আসতে পারে। সেই প্রতিবেদনটি জনসমক্ষে প্রকাশ করলে আমরা অনেক কিছু জানতে পারব।

দ্বিতীয় দফায় ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর শেষ হাসিনা টানা প্রায় দশ বছর যাবৎ ক্ষমতায়। এখন সময় এসেছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর পান্না কায়সারের নেতৃত্বাধীন কমিটির অনুরূপ একটি কমিশনের মাধ্যমে বিস্তারিত প্রতিবেদন ও সুপারিশ প্রণয়ন করা। তাহলে সংস্কৃতির নামে ঠিকাদারি বন্দোবস্তের অনেক কিছু বেরিয়ে আসবে। ২০০১-২০০৮ এই সময় কাল জামায়াত-বিএনপি চাপিয়ে দেয়া যাত্রাশিল্প-বিরোধী সিদ্ধান্তের কারণে আমাদের দেশে যাত্রাশিল্প মরতে বসেছিল। যাত্রাপ্রদর্শনী দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। সেই নীতি বাতিল করার কারণে এখন দেশের বিভিন্ন স্থানে আবার যাত্রা প্রদর্শনী শুরু হয়েছে।

সীমিত আকারে এটা একটা ভাল অগ্রগতি। তবে যাত্রাকে পূর্বের আদলে ফিরিয়ে আনতে হলে আরও ব্যাপক কর্মসূচি ও উন্নয়ন পরিকল্পনা দরকার। এটাকে শুধু শিল্পকলা একাডেমির নিয়ন্ত্রণে রাখলেই চলবে না।

আমাদের দেশের সংস্কৃতির প্রসার ও উৎকর্ষের প্রয়োজনে কয়েকটি পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে এই লেখাটি শেষ করতে চাই।

১. সর্বস্তরে পাঠ অভ্যাস গড়ে তোলার প্রয়োজনে প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ে ডিজিটাল সেবাসমৃদ্ধ পূর্ণাঙ্গ গণগ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা। গণগ্রন্থাগারে সাহিত্য অনুষ্ঠান ও সভা সেমিনারের জন্যে ব্যবস্থা রাখা।

২. সৃজনশীল শহর এর জন্যে নাটক, সাহিত্য ও সঙ্গীতসহ ইউনেস্কোসহ সম্ভাব্য সকল পর্যায়ে আবেদন করা। সেই নিমিত্তে সংস্কৃতির জন্যে বিভিন্ন বড় বড় শহরে বরাদ্দ নিশ্চিত করা।

৩. কবীর চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন কমিশনের আদলে সংস্কৃতি কমিশন গঠন করা এবং যুগোপযোগী আধুনিক সংস্কৃতি নীতি প্রণয়ন করা।

৪. প্রত্যেক সিটি কর্পোরেশনে নগর জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা এবং চিত্রগ্যালারি প্রতিষ্ঠা করা।

৫. প্রত্যেক জেলা শহরে স্থানীয় সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ অর্থায়নে নগর থিয়েটার প্রতিষ্ঠা করা। সেখানে পেশাদার নাটক ও যাত্রা প্রদর্শণীর পাশাপাশি স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রী এমনকি বিভিন্ন উপলক্ষে অপেশাদার দলকে নাট্য প্রদর্শনের জন্যে সুযোগ সৃষ্টি করা। ইউনিয়ন এবং পৌরসভা পর্যায়ে, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে সংস্কৃতি কর্মীদের জেন্য বৃত্তি, অনুদান এবং পুরস্কারের প্রবর্তন করা।

৬. দেশের ৭৫টি আদিবাসীর ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষা ও চর্চার জন্যে কবীর চৌধুরীর শিক্ষানীতির আলোকে প্রয়োজনীয় এবং কার্যকর পরিকল্পনা ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা।

৭. শ্রমজীবী ও কৃষিজীবী মানুষের নিজস্ব সাংগঠনকি কাঠামোকে নিয়মিত সংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা। জেলা শহরগুলো থেকে শুরু করে বিভাগীয় শহরগুলোর বড় বড় বাস টার্মিনাল, রেলওয়ে স্টেশন বা নদীবন্দরের কাছাকাছি সংস্কৃতি কেন্দ্র বা সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের ব্যবস্থা রাখা; বিশেষ করে নৃত্য, সঙ্গীত, নাটক প্রদর্শনী বা যাত্রা প্রদর্শনী বা প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণ করা।

৮. কেন্দ্রীয় খেলাঘর বা উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর ন্যায় গণশিক্ষা আদলের গণসংস্কৃতি চর্চা। প্রতিটি উপজেলা এবং ক্ষেত্রে ভেদে ইউনিয়ন পর্যায়ে ছড়িয়ে দেয়া।

৯. নবম দশম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের উদার ন্যায় নীতি নির্ভর স্বদেশ চেতনায় গড়ে তোলার নিমিত্তে ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীর’ ন্যায় কিছু গ্রন্থকে পাঠ্যক্রমিক কিংবা সহাপাঠ্যক্রমিক বিষয় হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করে দেয়ার সুপারিশ প্রণয়ন করা।

১০. সঙ্গীত চর্চার ক্ষেত্রে খেলাঘর আসর ছায়ানটের মত প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম দেশব্যাপী প্রসার ঘটানো।

১১. সংস্কৃতি ক্ষেত্রে প্রতিটি বিষয় যেমন সাহিত্য, চিত্রকলা, সঙ্গীত যাত্রা এবং নাটকের জন্যে আলাদা আলাদা স্বায়ত্ত্বশাসিত তহবিল গঠন করা। এই ব্যাপারে নরডিক অঞ্চলের দেশগুলোর অনুকরণ করা যেতে পারে।

১২. সংস্কৃতি অঙ্গনে পেশাদারি উৎকর্ষের জন্যে কল্যাণরাষ্ট্রগুলোর আদলে ইউনিয়ন ব্যবস্থা চালু করা যেমন, লেখক ইউনিয়ন, অভিনয়শিল্পী ইউনিয়ন, চিত্রশিল্পী ইউনিয়ন। আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলের আদলের পেশাজীবী সংগঠনগুলোকে ইউনিয়নের পর্যায়ে উন্নীত এবং পুর্নগঠন করা যেতে পারে।

১৩. বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম এবং মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার জন্যে অভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকা-, প্রতিযোগিতা এবং সংস্কৃতি বৃত্তি চালু করা।

১৪. ধর্মান্ধতা, উগ্রবাদ আর মাদকের মত বিপদ থেকে একটি জাতি আর প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে; মানবিক বিপর্যয় ঠেকাতে হলে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক উৎকর্ষতা নিশ্চিত করতে হলে, সংস্কৃতিক অবহেলা করার সুযোগ নাই। এখনই সময়। সংস্কৃতির দায় ও দায়িত্বটা কড়ায়গণ্ডায় বুঝে নেয়া।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY