এশিয়া কাপ বড় সুযোগ যাদের জন্য

0
17

তামিম ইকবালের উদ্বোধনী জুটির সঙ্গী কে? ছয়-সাতে কি মিলবে কার্যকর কোনো সমাধান? রঙিন পোশাকে কতটা তীব্র হবে মেহেদী হাসান মিরাজের আলোর ছটা? বিশ্বকাপ যত এগিয়ে আসছে, প্রশ্নগুলোর ওজনও বাড়ছে। উত্তরে প্রাপ্তি শুধুই হাহাকার। এবারের এশিয়া কাপ থেকেই হতে পারে সেই হাহাকার মুছে দেওয়ার শুরু। সম্ভাবনার দুয়ার খোলা আছে কয়েকজনের সামনে। শুধু দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে যাওয়ার পালা!

লিটন কুমার দাস

 ১২ ইনিংস খেলে সর্বোচ্চ রান ৩৬। গড় ১৫। এমন বিবর্ণ রেকর্ডের পরও এশিয়া কাপে তামিমের সম্ভাব্য সঙ্গী লিটন কুমার দাস। তার সুযোগ মিলেছে মূলত দুটি কারণে। প্রথমত, অন্যদের ব্যর্থতা। সৌম্য সরকার ও ইমরুল কায়েসের ওপর দল আস্থা হারিয়েছে আগেই। এ বছর বাংলাদেশের আট ওয়ানডের সাতটি খেলেও সুযোগ নিতে পারেননি এনামুল হক। লিটনের কাছে তাই ফিরতেই হতো।

সেই ফেরা আরও সহজ করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে লিটনের দুর্দান্ত ইনিংস। ফ্লোরিডায় ৩২ বলে ৬১ রানের সেই ইনিংস অনেকটাই নিশ্চিত করেছে লিটনের সংযুক্ত আরব আমিরাতের টিকিট। তার প্রতিভা, তার শটের বহর, তার কবজির নান্দনিকতা, সব কিছুর আরেকটি প্রমাণ যেমন ছিল, তেমনি ইনিংসটায় ফুটে উঠে ছিল তাকে নিয়ে সবচেয়ে আক্ষেপের জায়গাটিও। সম্ভাবনাময় ইনিংসকে বড় করতে না পারা!

সুযোগ যেভাবেই আসুক, তার জন্য সেটি অবারিত। এশিয়া কাপে ওপেনিংয়ে ভালো করতে পারলে তার ওপর বিশ্বকাপ পর্যন্ত বিনিয়োগ করবে দল। সৌম্য-এনামুলদের হয়ে তার কাছে এসেছে দল, বাইরে অপেক্ষায় বেশি কেউ নেই বলে চাপও খুব বেশি নেই। উইকেট হবে না খুব বিরুদ্ধ। বড় মঞ্চ, পারফরম্যান্সের ওজনও তাই থাকবে বেশি। আগের ১২ ইনিংসে কেবল দুইবারই ওপেন করেছিলেন লিটন। এবার নিজের প্রিয় পজিশনে যথেষ্ট সুযোগ পাবেন বলেই ইঙ্গিত। সব মিলিয়ে ওপেনিংয়ে নিজের ছাপ রাখার আদর্শ সুযোগ।

লিটনের ব্যাট হাসলে হাসবে টিম ম্যানেজমেন্ট, নির্বাচক কমিটি সবাই। দলের সবচেয়ে বড় দুর্ভাবনা যে তাতে কমে যায়!

মোহাম্মদ মিঠুন

 লিটনের সবশেষ টি-টোয়েন্টি ইনিংস যেমন ছিল নজরকাড়া, তেমনি নির্বাচকদের ভাবনায় কড়া নেড়েছে মোহ্ম্মদ মিঠুনের সবশেষ টি-টোয়েন্টি ইনিংস। যদিও সেটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ছিল না। গত মাসেই বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে আয়ারল্যান্ড সফরে শেষ টি-টোয়েন্টিতে খেলেছিলেন ৩৯ বলে ৮০ রানের বিস্ফোরক ইনিংস। তার আগে আইরিশদের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের শেষ দুই ম্যাচে করেছিলেন ৫১ বলে ৮৭ ও ৭৩ বলে ৭৩। তার দলে ফেরার পথ তৈরি করে দিয়েছে ‘এ’ দলের হয়ে পারফরম্যান্স।

পারফরম্যান্সের বাইরেও অবশ্য তার দলে ফেরার ভেলা হয়েছে মাঠের বাইরের আরেকটি ঘটনা। শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে সাব্বির রহমান নিষিদ্ধ হচ্ছেন নিশ্চিত হওয়ার পরই বিকল্প ভাবছিলেন নির্বাচকেরা। আয়ারল্যান্ডে মিঠুনের পারফরম্যান্স বিবেচনায় এসেছে তখনই। মূলত সাব্বিরের জায়গায়ই নেওয়া হয়েছে তাকে। ব্যাটিং অর্ডারের ছয় নম্বর পজিশনের ভাবনায়।

ছোট্ট ওয়ানডে ক্যারিয়ারে নিজেকে প্রমাণের সুযোগ আগে খুব একটা পাননি মিঠুন। তবে আত্মবিশ্বাসী থাকলে কতটা সাবলীল তার ব্যাট, ঘরোয়া ক্রিকেট ও ‘এ’ দলের হয়ে দেখিয়েছেন অনেকবার। সেই বিশ্বাস পেলে আলো ছড়াতে পারেন হয়ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও।

[X]

ছয় নম্বর পজিশনের দাবি মেটানোর মতো একজনকে অনেক দিন থেকেই খুঁজছে দল। এবারের বাজি মিঠুন। অবশ্য মাহমুদউল্লাহ ফিনিশারের ভূমিকায় দারুণ করছেন বলে তাকে ছয়ে খেলিয়ে মিঠুনকে পাঁচে খেলানোর একটা ভাবনাও আছে। শেষ পর্যন্ত পাঁচ হোক বা ছয়, সুযোগটি অনেক বড়। অনেকটা লিটনের মতোই। এশিয়া কাপে ভালো করলে সরাসরি চলে আসবেন দলের বিশ্বকাপ ভাবনায়!

মেহেদী হাসান মিরাজ

 তামিমের সঙ্গী খোঁজার আগে থেকেই চলছিল সাকিবের একজন সঙ্গীর অনুসন্ধান। তার স্পিন জুটির সঙ্গী! আব্দুর রাজ্জাককে বিতর্কিতভাবে উপেক্ষার পর থেকেই যে ঘাটতি প্রকট হয়ে উঠেছে অনেকবার। বাংলাদেশ পায়নি নির্ভর করার মতো দ্বিতীয় স্পিনার। চেষ্টা করা হয়েছে বেশ কজনকে দিয়ে। তারা ঝরে পড়েছেন দ্রুতই।

সাকিব বাঁহাতি স্পিনার বলে দ্বিতীয় স্পিনার হিসেবে গত কিছুদিন ধরে মূলত একজন অফ স্পিনার খুঁজছিল দল। সাদা পোশাকে মেহেদী হাসার মিরাজের শুরুটা উজ্জ্বল হলেও রঙিন পোশাকে ছিলেন বিবর্ণ। একজন অফ স্পিনারের জন্য মরিয়া টিম ম্যানেজমেন্টের পরামর্শে কিছুদিন আগে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বিপক্ষে সিরিজে হুট করেই বাংলাদেশ ‘এ’ দলে ডাকা হয় সোহাগ গাজীকে। শেষ পর্যন্ত সেই শূন্যতা পূরণের আশা মিলেছে মিরাজের হাত ধরেই। ওয়েস্ট ইন্ডিজে ওয়ানডে সিরিজে তার বোলিং স্বস্তি হয়ে এসেছে দলের জন্য।

উইকেট খুব বেশি নেননি, তিন ওয়ানডেতে তিনটি। তবে ক্যারিবিয়ান বিগ হিটারদের সামনে তার নিয়ন্ত্রিত কিন্তু সাহসী বোলিংয়ে মিলেছে দারুণ সম্ভাবনার ইঙ্গিত। সেই সম্ভাবনাকেই আরও পোক্ত করার সুযোগ এশিয়া কাপে। উপমহাদেশের স্পিনে দক্ষ ব্যাটসম্যানদের সামনে যদি মিরাজ ধরে রাখতে পারেন গত সিরিজের ধারাবাহিকতা, অধিনায়ককে সেটি এনে দেবে স্বস্তিতে শ্বাস নেওয়ার সুযোগ।

এবং আরও চার

ব্যাটিং অর্ডারের সাতে কে? আপাতত দলের ভাবনায় মোসাদ্দেক হোসেন। যদিও ওয়ানডেতে এটি তার আদর্শ পজিশন কিনা, সেটি নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায়। তবে যেখানে সুযোগ আসে, সেখানে ভালো করেই দাবি জানাতে হবে ওপরে ব্যাট করার। সেই সুযোগ মোসাদ্দেক পাবেন।

স্কোয়াডে আছেন আরিফুল হক, এই পজিশনের ভাবনায় থাকতে পারেন তিনিও। ইংল্যান্ডে আগামী বিশ্বকাপের আগে একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডার পাওয়ার যে তাড়না, সেখানে আপাতত বিচরণ আরিফুলেরই। যদিও শুরুতে তার সামনে সুযোগ আসার সম্ভাবনা কম। তবে সুযোগ এলে সেটি কাজে লাগালেই কেবল মিলবে নিয়মিত খেলার সুযোগ।

নাজমুল হোসেন শান্তর ওয়ানডে অভিষেক হয়নি এখনও। তবে স্কোয়াডে আছেন তিনি টানা দুটি সিরিজে। গত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ৫৭.৬১ গড় ও ৯৭.৫২ স্ট্রাইক রেটে ৭৪৯ রান করে হয়েছিলেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ স্কোরার। তার ফিটনেস দুর্দান্ত। উন্নতি হয়েছে ব্যাটিংয়ে, বেড়েছে শটের পরিধি। ওপেনিং থেকে শুরু করে তিন নম্বর, মিডল অর্ডার, সব পজিশনেই তিনি হতে পারেন যে কারও বিকল্প। দলের আশেপাশে আছেন বেশ কিছু দিন, মনে করা হয় বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের ভবিষ্যত। যদি সুযোগ আসে, ভবিষ্যতকে বর্তমানে আনার দায়িত্ব তারই।

ওয়ানডে অভিষেকের অপেক্ষায় আছেন আবু হায়দারও। টি-টোয়েন্টিতে ক্রমেই আস্থার জায়গা হয়ে উঠছেন এই বাঁহাতি পেসার। নিজের সীমার মধ্যে থেকেই নিয়ন্ত্রিত বোলিং ও ছোট ছোট সুইং তার বড় শক্তি। মাশরাফি-মুস্তাফিজ-রুবেলকে নিয়ে গড়া বোলিং আক্রমণে তার সুযোগ খুব একটা মিলবে না। তবে কোনো ভাবে যদি পেয়ে যান এসে যান একাদশে, ব্যাকআপ পেসার হিসেবে নিজের নাম খোদাই করার সেটিই হবে সুযোগ।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY