খালেদার মুক্তি হলে বোঝা যাবে আ.লীগ নির্বাচন চায়: বিএনপি

0
202

সোমবার ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এই কর্মসূচিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “দেশনেত্রীকে মুক্তি দিলে তাহলেই বোঝা যাবে যে এই সরকার দেশে নির্বাচন চায়।”

জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে বন্দি রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

তার মুক্তির দাবিতে ঢাকায় প্রেস ক্লাবের সামনে এবং সারাদেশে মহানগর ও জেলা সদরে বেলা ১১টা থেকে এক ঘণ্টার এই মানববন্ধন কর্মসূচি চলে।

এই কর্মসূচিতে মানববন্ধন হওয়ার কথা থাকলেও ঢাকার কেন্দ্রীয় কর্মসূচি বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে সমাবেশের রূপ পায়। প্রেস ক্লাবের সামনে গুরুত্বপূর্ণ ওই সড়কের এক পাশ বন্ধ থাকায় সৃষ্টি হয় যানজট।

প্রেস ক্লাবের ফুটপাতসহ সড়কের পাশে অবস্থান নেওয়া নেতা-কর্মীরা ‘মুক্তি মুক্তি মুক্তি চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই’, জেলের তালা ভাঙব, খালেদা জিয়াকে আনব’, খালেদা জিয়া ছাড়া নির্বাচন মানি না, মানব না’ স্লোগান ধরেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, এদেশে কোনো নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না জনগণের কাছে, যদি দেশনেত্রী কারাগারে থাকেন।”

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও মুক্তির দাবিতে সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে বিএনপি। ছবি: আব্দুল্লাহ আল মমীন

সরকারপতনের আন্দোলনে সকল রাজনৈতিক দলের বৃহত্তর ঐক্যের ডাক দিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “এখন দরকার আমাদের ঐক্য, ইস্পাত কঠিন ঐক্য। দলের মধ্যে সেই ঐক্য তৈরি করে, জনগণের মধ্যে সেই ঐক্য তৈরি করে, সকল রাজনৈতিক দল ও সকলের মিলে সেই ঐক্য তৈরি করে এই যে ভয়াবহ দানবকে সরিয়ে জনগণের সরকার, জনগণের গণতন্ত্র, জনগণের রাষ্ট্র তৈরি করতে হবে। ”

[X]

নির্বাচন প্রশ্নে বিএনপির দাবিগুলো আবারও তুলে ধরে ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে ফখরুল বলেন-“আমরা স্পষ্ট করে বলেছি, এই সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে তফসিল ঘোষণার আগেই, সংসদ ভেঙে দিতে হবে তফসিল ঘোষণার আগেই। আমরা বলেছি একটা নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে নির্বাচন পরিচালনার জন্য, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে, নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে।”

সরকার সারাদেশে ‘ভৌতিক মামলা’ দিয়ে বিএনপি নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করছে এবং হুমকি-ধামকি দিয়ে ‘গোটা জাতিকে জিম্মিতে পরিণত’ করেছে বলে অভিযোগ করেন এই বিএনপি নেতা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, খালেদা জিয়া ও বিএনপিকে ‘বাইরে রেখে’ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মত আরেকটি নির্বাচন করাই আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের ‘উদ্দেশ্য’।

“কিন্তু দেশের মানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, আগামী নির্বাচন হতে হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে।  সারাদেশের মানুষ যেমন এই দাবিতে একমত, সারা বিশ্বও বাংলাদেশে একটা সুষ্ঠু অংশগ্রহনমূলক নির্বাচন দেখতে চায়।”

বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদের পরিচালনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, বরকতউল্লাহ বুলু, এজেডএম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, জয়নুল আবদিন ফারুক,  হাবিবুর রহমান হাবিব, আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, নাজিমউদ্দিন আলম, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, মীর সরফত আলী সপু, আজিজুল বারী হেলাল, মহানগর দক্ষিণের কাজী আবুল বাশার, যুব দলের মোরতাজুল করীম বাদরু, স্বেচ্ছাসেবক দলের আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল,শ্রমিক দলের নুরুল ইসলাম খান নাসিম, ছাত্র দলের রাজীব আহসান, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান মানববন্ধনে বক্তব্য দেন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY