চিকিৎসা নিয়ে রিট আবেদনের শুনানি হয়নি-খালেদার

0
65

সোমবার খালেদার আইনজীবীর আবেদনে শুনানি আজ নয় বলে বলে আদেশ দেয় বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি সোহেল আহমেদের হাই কোর্ট বেঞ্চ।

রিট আবেদনটি শুনানির জন্য আদালতের কার্যতালিকায় ৬৫ নম্বরে ছিল।

পরে খালেদা জিয়ার আইনজীবী কায়সার কামাল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আজ আবেদনটি শুনানি না করার জন্য আমি আবেদন করেছিলাম।

“আদালত পরে শুনানি নট টু ডে করেছে। আগামীকাল যথারীতি কার্যতালিকায় থাকবে।”

হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ থেকে অনুমতি নিয়ে রোববার রিটটি দায়ের করেছিলেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী নওশাদ জমির।

বিশেষায়িত হাসপাতালে বিশেষ করে ইউনাইটেড হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে আবেদনে।

স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজি (প্রিজন), ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপারসহ সাতজনকে বিবাদী করে রোববার দায়ের করা রিটে খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিতে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি হবে না, তা জানতে রিট আবেদনে রুল চাওয়া হয়েছে।

এছাড়াও রিটে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য একটি বিশেষ বোর্ড গঠন এবং এখন পর্যন্ত তার চিকিৎসা সেবা সংক্রান্ত যাবতীয় নথিপত্র দাখিলের নির্দেশনা চাওয়ার কথাও সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন।

আদালতের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেছুর রহমান খোকন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রিটটি শুনানির জন্য আজ কার্যতালিকায় ছিল। কিন্তু একজন আইনজীবী শুনানি না করার জন্য বললে, আদালত নট টু ডে আদেশ দিয়েছে। কাল শুনানির জন্য কার্যতালিকায় থাকবে।”

[X]

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসা বিএনপি নেতারা আগেই জানিয়েছিলেন, তারা এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন।

সে অনুযায়ী মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে বিএনপির সাত জ্যেষ্ঠ নেতার প্রতিনিধি দল সোমবার বিকালে সচিবালয়ে গেলে দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য  ‘আবারও’ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হবে বলে আশ্বাস দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

মন্ত্রী মেডিকেল বোর্ড গঠনের আশ্বাস দেওয়ার প্রেক্ষাপটে রিট আবেদনটির ওপর শুনানি করা হয়নি বলে জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার অন্য একজন আইনজীবী।

খালেদার অসুস্থতার কারণে এর আগেও একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছিল সরকার। কিন্তু পরীক্ষা করে সেই মেডিকেল বোর্ড বলেছিল, বিএনপি চেয়ারপারসনের অসুস্থতা গুরুতর নয়।

মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকদের পরামর্শে এক্সরে করাতে গত ১৪ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। তবে সরকারের গঠিত ওই মেডিকেল বোর্ড নিয়ে অনাস্থা জানিয়েছিল বিএনপি।

জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি। জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট মামলার শুনানি শেষ করতে কারাগারের ভেতরেই আদালত বসিয়ে তার বিচারের ব্যবস্থা করেছে সরকার।

গত সপ্তাহে ওই আদালতে শুনানির প্রথম দিন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বিচারককে বলেন, তিনি অসুস্থ। এই অবস্থায় তার পক্ষে বার বার আদালতে আসা সম্ভব নয়। বিচারক যতদিন খুশি সাজা দিতে পারেন।

এরপর গত শুক্রবার কারাগারে গিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে এসে তার আইনজীবীরাও সাংবাদিকদের একই কথা বলেন।

এরপর রোববার বিএনপি চেয়ারপারসনকে বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে  হাই কোর্টে  রিট আবেদনটি করা হয়।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY