জাতীয় মাছ ইলিশের জীবনরহস্য উন্মোচন

0
51

ইলিশ এক বিরল প্রাণীজ সম্পদ যা কেবল বাংলাদেশেই পাওয়া যায়। ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও পাওয়া যায়। তবে তা সামুদ্রিক ইলিশ, বাংলাদেশের নদ-নদীগুলো থেকে আহরিত মিঠা পানির ইলিশ নয়। তাইতো ভারতসহ অন্যান্য দেশে বাংলাদেশের ইলিশের কদর সবচে বেশি। যা রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে বাংলাদেশ। আর এসব কারণেই ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ

কিন্তু এই জাতীয় মাছ ইলিশের জীবনরহস্য কি? ইলিশের জীবনরহস্য অনুসন্ধানে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে গবেষণা শুরু করেন ময়মনসিংহস্থ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মৎস্য গবেষকরা। যার ফলশ্রুতিতে ২০১৭ সালের ৩১ জুলাই ইলিশের পূর্ণাঙ্গ ডি-নোভো-জিনোম অ্যাসেম্বলি প্রস্তুত হয় এবং একই বছরের ২৫ আগস্ট আন্তর্জাতিক জিনোম ডাটাবেজ ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশনে জমা করা হয় ইলিশের সম্পূর্ণ জিনোম সিকোয়েন্স। এছাড়াও ইলিশের জিনোম নিয়ে গবেষণালব্ধ ফলাফল আরো ২টি আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে উপস্থাপন করা হয়।

ইলিশের জীবনরহস্য উন্মোচন করতে গবেষকরা প্রথমে মেঘনা ও বঙ্গোপসাগর থেকে জীবন্ত পূর্ণবয়স্ক ইলিশ সংগ্রহ করে বাকৃবি’র ল্যাবরেটরিতে উচ্চ গুণগত মানের জিনোমিক ডিএনএ প্রস্তুত করেন। পরবর্তীতে পৃথকভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে জিনোম সিকোয়েন্সিং সেন্টারে সংগৃহীত ইলিশের প্রাথমিক ডেটা সংগ্রহ করা হয়। এরপর বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সার্ভার কম্পিউটারে বিভিন্ন বায়োইনফরম্যাটিক্স প্রোগ্রাম ব্যবহার করে সংগৃহীত প্রাথমিক ডেটা থেকে ইলিশের পূর্ণাঙ্গ নতুন জিনোম বিশ্লেষণ সম্পন্ন করা হয়।

[X]

বাকৃবি’র অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলমের নেতৃত্বে এই গবেষক দলের অন্যান্য সদস্যরা হলেন, পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. মো. বজলুর রহমান মোল্লা, বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রফেসর ড. মো. শহিদুল ইসলাম ও ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের প্রফেসর ড. মুহা. গোলাম কাদের খান।

প্রায় ৩ বছর গবেষণার পর বিশ্বে প্রথমবারের মতো ইলিশের পূর্ণাঙ্গ জীবনরহস্য উন্মোচনে সফলতা পান বাকৃবি’র গবেষকরা। শনিবার সকালে বাকৃবি ক্যাম্পাসের সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ সাফল্য অর্জনের দাবি করেন তারা।

এ সময় বাকৃবি’র ইলিশ জিনোম সিকোয়েন্সিং অ্যান্ড অ্যাসেম্বলি টিমের সমন্বয়ক ও ফিসারিজ বায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম বলেন, জিনোম হচ্ছে কোনো জীবের পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। জীবের জন্ম, বৃদ্ধি, প্রজনন এবং পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াসহ জৈবিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় জিনোমের মাধ্যমে। ইলিশের জিনোমে ৭৬ লাখ ৮০ হাজার নিউক্লিওটাইড রয়েছে, যা মানুষের জিনোমের প্রায় এক চতুর্থাংশ।

প্রসঙ্গত, এর আগে দেশি ও বিদেশি গবেষকদের সমন্বয়ে পাট ও মহিষের জীবনরহস্য উন্মোচন হয়েছে। তবে ইলিশের ক্ষেত্রে এবার শুধুমাত্র দেশীয় গবেষকরাই এমন সাফল্য অর্জন করলেন, যা মৎস্য সেক্টরে যুগান্তকারী যুগের সৃষ্টি করবে বলে গবেষকদের দাবি।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY