জোট বাড়াতে মতৈক্য ২০ দলে

0
38

রোববার রাতে ২০ দলীয় জোটের এক বৈঠক শেষে জোটের সমন্বয়কারী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান তাদের এই সিদ্ধান্ত সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের শাসনামলে দেশ গণতন্ত্রহীন হয়ে পড়েছে দাবি করে এ থেকে উত্তরণে ‘জাতীয় ঐক্য’ গড়ে আন্দোলনের কথা বলে আসছে বিএনপি।

এই জোটের পরিসর আরও বাড়াতে বিএনপি আগ্রহী হলেও তাদের জোট শরিক জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে আপত্তি রয়েছে অনেকের।

খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগে যে নির্দেশনা দিয়ে গেছেন, তা অনুসরণ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা চলার কথা বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানানোর একদিন বাদেই ২০ দলীয় জোট বৈঠকে বসল।

নজরুল বলেন, “আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগেও বলে গেছেন যে, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য দেশের সকল গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও ব্যক্তির একটা বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। আমরা সেই ঐক্য গড়ে তোলার কাজ করছি।

“আজকে জোটের এই সভায় এটাই দৃঢ়তর করা হলো এই বলে যে, ২০ দল এই উদ্যোগকে শুধু সমর্থনই করে না, তারা ( ২০ দল)  এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বর্তমানে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট সক্রিয় রয়েছে। এর বাইরে সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টিও তাদের মিত্র হিসেবে কাজ করছে।

ক্ষমতাসীনদের বাইরে এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্টে রয়েছে মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য, আ স ম আবদুর রবের জেএসডি; এই জোটের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে রাজি হয়েছে কামাল হোসেনের গণফোরাম।

এছাড়া আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের বাইরে থাকা বাম দলগুলো গড়ে তুলেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট; যার নেতৃত্ব দিচ্ছে সিপিবি ও বাসদ।

[X]

একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে জোটে ভেড়াতে কোন কোন দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে, তা প্রকাশ করেননি বিএনপি নেতারা।

নজরুল বলেন, “সভায় জোটনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ রাজবন্দিদের মুক্তি, নির্দলীয় সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে সংসদ ভেঙে দেওয়া, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, ইভিএম ব্যবহার না করা, নির্বাচনকালীন সময়ে সশস্ত্র বাহিনী নিয়োগ, জনাব তারেক রহমানসহ মিথ্যা মামলায় আটক রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলায় প্রত্যাহার, হয়রানি বন্ধসহ ন্যূনতম দাবিতে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় দেশের সকল গণতন্ত্রকামী দল, সংগঠন ও ব্যক্তির প্রতি আহ্বান জানায়।”

২০ দলীয় জোট কারাবন্দি জোটনেত্রী খালেদা জিয়াকে দ্রুত ইউনাইটেড হাসপাতালে স্থানান্তরের দাবিও জানিয়েছে।

গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন মির্জা ফখরুল। বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ, জামায়াতে ইসলামী আবদুল হালিম, ইসলামী ঐক্যজোটের এম এ রকীব, খেলাফত মজলিশের আহমেদ আবদুল কাদের, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, এনডিপির খোন্দকার গোলাম মূর্তজা, লেবার পার্টির দুই অংশের মোস্তাফিজুর রহমান ইরান ও এমদাদুল হক চৌধুরী, জাগপার তাসমিয়া প্রধান, ন্যাপ-ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, মুসলিম লীগের  এএইচএম কামরুজ্জামান খাঁন, পিপলস লীগের সৈয়দ মাহবুব হোসেন, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ, ডিএলের সাইফুদ্দিন মনি, ন্যাপের গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, ইসলামিক পার্টির আবু তাহের, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামীর দুই অংশের মাওলানা নুর হোসেন কাশেমী ও মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY