রহস্যজনক কথা নিজামের সোনার টিফিনবক্সে খাবার খেত চোর

0
22

তিন স্তরের ওই টিফিনবক্সটির ওজন দুই কেজি। তাতে হীরা, পান্না ও রুবির মত মূল্যবান পাথর লাগানো আছে। শুধু টিফিনবক্সটির সোনার বাজার মূল্য প্রায় এক কোটি রুপি। ঐতিহ্যের সাক্ষী এ বক্সটির প্রকৃত মূল্য আরও অনেক বেশি।

পুলিশ জানায়, ‘অ্যান্টিক’ হওয়ায় দুবাইয়ে এই টিফিনবক্সটি ৩০ থেকে ৪০ কোটি রুপিতে কেনার লোক আছে।

গত ২ সেপ্টেম্বর দুই চোর একটি ভেন্টিলেটরের ভেতর দিয়ে নিজাম জাদুঘরে প্রবেশ করে সোনার তৈরি ওই টিফিনবক্স, রুবি ও পান্না খচিত একটি সোনার তৈরি কাপ, একটি পিরিচ, একটি চামচ এবং একটি ট্রে চুরি করে।

পুলিশ জানায়, অনেকটা হলিউডের সিনেমায় দেখানো দৃশ্যের মত ওই দুই চোর ভেন্টিলেটর ভেঙ্গে হায়দরাবাদের নিজাম গড়ের ‘পুরানা হাভেলিতে’ অবস্থিত জাদুঘরে প্রবেশ করে।

নিজাম জাদুঘরে প্রায় ৩২টি সিসিটিভি ক্যামেরা আছে। যেগুলোর বেশিরভাগকেই দুই চোর অত্যন্ত কৌশলে ফাঁকি দিতে সক্ষম হয়।

শুধু জাদুঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পথে একটি ক্যামেরায় দুই ব্যক্তিকে একটি মোটরবাইকে করে চলে যেতে দেখা যায়। যদিও ভিডিওতে তাদের চেহারা একদমই দেখা যায়নি।

যে কারণে চোরদের পাকড়াও করা ভীষণ কঠিন হয়ে পড়ে। অনেকটা খড়ের গাদায় সুই খোঁজার মত।

পুলিশের ২২টি দল চোর খুঁজতে মাঠে নেমে পড়ে।

কোনো ‘ক্লু’ না থাকায় পুলিশ অন্ধকারেই সুত্র খুঁজতে শুরু করে।

[X]

চারমিনার এলাকায় একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় দুই ব্যক্তিকে মোটরবাইকে দেখা যায়। বাইক নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা সেখানে থেমেছিল।

পাশের জহিরাবাদ জেলায় নষ্ট বাইকটি খুঁজে ‍পাওয়া যায়।

কিন্তু ততদিনে দুই চোর মুম্বাই পালিয়ে গেছে। তারা সেখানে কয়েক দিন ধরে একটি পাঁচ তারকা হোটেলে রীতিমত রাজকীয় জীবনযাপন করেছে। তাদের একজন প্রতিদিন ওই সোনার টিফিনবক্সে খাবার খেত বলে জানায় পুলিশ।

হায়দরাবাদ পুলিশ কমিশনার বলেন, “শেষ নিজাম মীর ওসমান আলি খান ওই টিফিনবক্সে কোনোদিন খাবার খেয়েছেন কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে। ‍অথচ চোর কয়েকদিন ধরে ওই বাটিতে খাবার খেয়েছে।”

কিন্তু চোরাই পণ্যের কোনো ক্রেতা না পেয়ে তারা আবার হায়দরাবাদে ফিরে আসে। সেখানেই পুলিশ তাদের পাকড়াও করে।

দুই চোরের একজন ২৫ বছরের ঘোষ পেশায় রাজমিস্ত্রি। সে এর আগে বহুবার চুরি বা ডাকাতি করেছে। তার নামে প্রায় ২৬টি মামলা আছে বলে জানায় পুলিশ।

যে ভেন্টিলেটর ভেঙ্গে দুই চোর জাদুঘরে প্রবেশ করেছিল সেখানে পুলিশ দুইটি চিহ্ন দেখতে পায়। ওই ধরনের চিহ্ন সাধারণত রাজমিস্ত্রিরা দিয়ে থাকে। পুরানা হাভেলিতে থাকা একই রকম ২৮টি ভেন্টিলেটরের মধ্যে কোনটি দিয়ে মূল্যবান দ্রব্য রাখার কক্ষে প্রবেশ করা যাবে সেটা চিহ্নিত করতে চোররা ওই চিহ্ন দিয়েছিল।

অন্য চোর এক কিশোর, যে চুরি মূল পরিকল্পনা করেছিল। কয়েক মাস আগে পর্যটক হিসেবে নিজাম জাদুঘর ঘুরে দেখে সে এই চুরির পরিকল্পনা করে।

চুরির আগে তারা আরও ছয়/সাত বার জাদুঘরে গিয়ে সব কিছু ঠিকঠাক করেছিল।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY