নোয়াখালীতে বেদেপল্লিতে তাণ্ডব: আতঙ্কিত বেদেরা

0
32

হামলায় সহায়সম্বলহীন হওয়া পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছে। কেউ কেউ অন্য স্থানে চলে যাচ্ছে পরিবার পরিজন নিয়ে।

সোমবার পূর্ব এওজবালিয়া গ্রামে বেদেপল্লিতে এ হামলা হয়। ওইদিন রাতেই অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার এ ঘটনায় থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।

সুধারাম মডেল থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানান, বেদেপল্লিতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বেদে সর্দার জাকের হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে স্থানীয় ২৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও দুইশ জনকে আসামি করা হয় বলে তিনি জানান।

অপর মামলাটি দায়ের করেন স্থানীয় দেলোয়ার হোসেন বাহার। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন কিশোর তারেক আজিজেজ বাবা।

এই মামলার এজাহারে বেদেদের ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও ১৫/১৬ জনকে আসামি করা হয়।

ঘটনার রাতেই অভিযান চালিয়ে হামলার ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান ওসি

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, শুক্রবার বেদেপল্লির এক কিশোরী স্থানীয় একটি দোকোনে আইসক্রিম কিনতে গেলে দোকানি তাকে অশালীন মন্তব্য করে। এনিয়ে বেদেদের সঙ্গে দোকানি ও এলাকাবাসীর সংঘর্ষ হয়।

এ সময় চা দোকানের গরম তেলে তারেক আজিজ (১৭) নামে স্থানীয় এক কিশোরের শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। আশংকাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

[X]

সোমবার এলাকায় তারেকের মৃত্যুর গুজবে ছড়িয়ে পড়লে গ্রামবাসী বেদেপল্লিতে হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায়।

বেদে সর্দার মো. ওয়াসিম অভিযোগ করেন, তাদের ৩২টি টিনের ঘর, ১০টি তাবু ও ২৫টি খুপরি ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এছাড়া ১১টি ঘর ও ১১০টি সাপ পুড়ে যায়। হামলায় আহত হয় ছয় বেদে।

তিনি বলেন, “ঘটনার পর থেকে বেদে পরিবারগুলোতে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভয়ে অনেক পরিবার মালামাল নিয়ে অন্য জায়গায় চলে যেতে দেখা যায়। সর্বস্ব হারিয়ে পরিবারগুলো এখন খোলা আকাশের নিচে বাস করছে।”

ওয়াসিম ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার দাবি জানান।

সদর-সুবর্ণচর আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস ও ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার সৈকত শাহীন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদেরকে শান্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও গৃহ নির্মাণে সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম সরদার বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তাদের জন্য কোনো বরাদ্দ পাওয়াগেলে দ্রুত তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

ঘটনার পর পূর্ব এওজবালিয়া গ্রামে স্থাপিত অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মমিনুল ইসলাম বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে তৎপর রয়েছে পুলিশ। স্থানীয় লোকজন ও বেদেদের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধ মীমাংশার জন্য স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন পক্ষ কাজ করছে

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY