পানি’ দিয়ে কম্পিউটার ঠান্ডা রাখার উপায়!

0
1

অনেকেই বেশি সময় ধরে কম্পিউটার ব্যবহার করেন। এতে দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটার চালু থাকায় গরম হয়ে পড়ে। তবে কম্পিউটারকে ঠান্ডা করতে নানা প্রযুক্তি থাকলেও এখন ব্যবহার হচ্ছে লিকুইড কুলিং সিস্টে যা কম্পিউটারকে তাপমাত্রাজনিত দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করবে।

কম্পিউটারে প্রসেসর, র‍্যাম, গ্রাফিক্স কার্ড, হার্ডডিস্ক, মাদারবোর্ডসহ আরও গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ থাকে। অতিরিক্ত ব্যবহারে এই যন্ত্রাংশগুলো গরম হয়ে উঠতে পারে। আর এতে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত সময়ে কম্পিউটারটি বন্ধ হয়ে যাওয়া অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যদিও এ সমস্যা থেকে মুক্ত থাকতে অনেক ব্যবহারকারী বাড়তি পদ্ধতির আশ্রয় নিয়ে থাকেন। তবে লিকুইড কুলিং সিস্টেম এক্ষেত্রে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও কার্যকরী পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

লিকুইড কুলিং সিস্টেমে কম্পিউটারকে ঠান্ডা রাখতে মূল ভূমিকা পালন করে পানি। এ প্রক্রিয়ায় বিশেষ টিউবের সাহায্যে কম্পিউটারে পানির সঞ্চালন বা প্রবাহ নিশ্চিত করা হয়। টিউবগুলো এমনভাবে যুক্ত করা হয় যাতে পানি সরাসরি যন্ত্রের গায়ে না লেগেই পানির ঠান্ডাভাব কম্পিউটারের সকল যন্ত্রাংশকে স্পর্শ করে।

[X]

টিউবগুলোতে পানি সরবরাহ ছাড়াও প্রযুক্তিটির চারদিকে কয়েকটি এলএইডি ফ্যান বেশ জোরে ঘুরতে থাকে। সামগ্রিকভাবে বিষয়টি এমনভাবে সাজানো থাকে, যাতে প্রতিনিয়ত অতিরিক্ত তাপ শোষণ করে কম্পিউটারকে রিফ্রেশ অবস্থায় রাখা হয়। কম্পিউটারের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকে।

যেভাবে কাজ করে এই কুলিং সিষ্টেম:লিকুইড কুলিং সিস্টেম প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র র‍্যাডিয়েটর। কম্পিউটারের বিভিন্ন যন্ত্রের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে পানি যখন নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় গরম হয়ে যায়, তখন তা র‍্যাডিয়েটরে জমা হয়। র‍্যাডিয়েটর সেই গরম পানিকে পুনরায় ঠান্ডা পানিতে পরিণত করে। চক্রাকারে সেই পানি আবার টিউবের সাহায্যে কম্পিউটারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশকে ঠান্ডা করতে প্রবাহিত হয়। এ প্রক্রিয়াটি সার্বক্ষণিক চলতে থাকে।

তবে জেনে রাখা ভালো, যে পানি ব্যবহার করা হয়, তা সাধারণ পানি নয়। সাধারণ পানি হলে তা টিউবের মধ্যে আবদ্ধ থাকায় পঁচে যাবে। তাই পানির সাথে ইথানেল গ্লাইকন ও ডিইথাইনেল গ্লাইকন নামক ক্যামিকাল মিশিয়ে পানিকে ‘অপচনশীল পানি’ হিসেবে তৈরি করা হয়। এই বিশেষায়িত পানির আরেকটি গুণ হচ্ছে, এটি যতই ঠান্ডা হোক না কেন তা বরফে পরিণত হবে না।

সবমিলিয়ে এই পদ্ধতি কম্পিউটারকে করবে অধিক ব্যবহারযোগ্য ও নিরাপদ। যদিও বাংলাদেশের কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের কাছে এটি এখনো ততটা জনপ্রিয়তা পায়নি। কারণ দেশে এখনো এয়ার কুলার বেশি জনপ্রিয়।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY