ব্রাদারহুডের ৭৫ কর্মীকে মৃত্যুদণ্ড, লজ্জ্বাজনক বলল অ্যামনেস্টি

0
28

কায়রোতে এক সহিংসতার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মুসলিম ব্রাদারহুডের একজন জ্যেষ্ঠ নেতাসহ ৭৫ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন মিশরের একটি আদালত। শনিবার দেশটির তোরা কারাগার প্রাঙ্গণে স্থাপিত বিশেষ আদালত কর্তৃক দেয়া এই রায়ে প্রায় ছয়শ কয়েদিকে কারাদণ্ডের সাজা দেয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে হত্যার মতো অভিযোগ ছাড়াও সহিংসতা ছাড়াবার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

 

তবে ২০১৩ সালের ওই ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালিয়ে ৮০০ বিক্ষোভকারীকে হত্যা করলেও আদালতের রায়ে নিরাপত্তাবাহিনীর কোনও সদস্যকে আইনের আওাতায় না আনায় মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের পক্ষ থেকে এ রায়কে ‘বিচারের নামে প্রহসন’ আখ্যা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

[X]

প্রসঙ্গত, মিশরের ইতিহাসে প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের এক বছরের মাথায় ২০১৩ সালের ৩ জুলাই সেনা অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন মোহাম্মদ মুরসি। ইসরায়েল, সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের সমর্থনে ক্ষমতা দখল করেন সেনাপ্রধান জেনারেল সিসি। মুরসিকে কারাগারে আটক এবং ব্রাদারহুডকে নিষিদ্ধ করে গ্রেপ্তার করা হয় শত শত কর্মীকে। প্রতিবাদে মুরসির সমর্থকরা রাস্তায় নেমে আসলে তাদের ওপর চড়াও হয় সরকারি বাহিনী। নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করে আটশত আন্দোলনকারীকে। কিন্তু উল্টো অপরাধী সাজিয়ে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতা-কর্মী ও তাদের শত শত সমর্থককেই।

আদালতের দেয়া এই রায়ে এশাম আল এরিয়ান, মোহামেদ বেলতাগি এবং সাফওয়াত হিগাজিসহ মুসলিম ব্রাদারহুডের বেশ কয়েকজন নেতাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে বলা হয়েছে। সংগঠনটির আধ্যাত্মিক নেতা মোহামেদ বাদিসহ আরও অনেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। আর বাকিদেরকে ৫ বছর ১৫ বছর মেয়াদি সাজা ঘোষিত হয়েছে। এছাড়া বন্দি অবস্থায় পাঁচ মৃতের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।

এদিকে আদালতের এই রায়কে ‘লজ্জ্বাজনক’ আখ্যা দিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমরা সর্বোচ্চ কঠোর ভাষায় আজ ঘোষিত এই রায়ের নিন্দা জানাচ্ছি। নিরাপত্তা বাহিনীর কোনো সদস্যের সাজা না হওয়ায় প্রমাণিত হয় যে, এটা ছিল বিচারের নামে প্রহসন।’

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY