ভ্রমণে সহযাত্রীদের বিব্রতকর যেসব অভ্যাস

0
27

সারাদিন অফিসের ঝুট ঝামেলা শেষে ক্লান্ত শরীরে হয়তো ঘরে ফিরছেন আপনি। কিংবা ফিটফাট হয়ে প্রথম কোনো চাকরির সাক্ষাৎকার দিতে যাচ্ছেন! আর আপনার ভরসার বাহন কোনো পাবলিক বাস কিংবা ট্রেন। যেখানে অনেক ভিড়ে গাদাগাদি করছে মানুষ। 

এমন সময় হঠাৎ আপনার পাশের সিটে বসা সহযাত্রীটি খুব জোরে জোরে কথা বলা শুরু করলেন মোবাইল ফোনে। রীতিমত চিৎকার যাকে বলে! কিংবা পানের পিক ফেলে দিল আপনার সাধের ধবধবে সাদা শার্টটায়।

কি? মেজাজটা আপনার বেশ চড়ে উঠলো? মুখ ফুটিয় হয়তো কিছু বলতেও পারছেন না। তাহলে উপায় কি?

সহযাত্রীর এমন বিরক্তিকর আচরণ কিংবা অভ্যাসের জন্য আপনার ভ্রমণটাই বরবাদ হয়ে যেতে পারে। এক জরিপে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের কাছ থেকে এমন কিছু বিব্রতকর পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চেয়েছিল বিবিসি।

তাদের একজন সায়মন জোন্স। তিনি বিবিসিকে জানিয়েছেন, ‘লন্ডনে তার সামনেই একদিন এক সহযাত্রী পা উঁচু করে নেইল কাটার দিয়ে নখ কাটা শুরু করে দিল। তার খোলা জুতা ও মোজাগুলো থেকে দুর্বিষহ গন্ধ বের হয়ে আসছিল।’

বেলজিয়ামের ওয়াটারলু শহর থেকে ট্রেনে চেপে বসেছিলেন এন্ড্রু র‍্যান্ডলে নামের ৪৫ বছরের এক যাত্রী। তিনি একটু পরই লক্ষ করলেন তার পাশের সহযাত্রীটি খুব বিরক্তিকর ভঙ্গিতে বারবার নাক চুলকানো শুরু করে দিয়েছে। নাকের লোমগুলো নিয়ে যেন খেলছে-এমন অবস্থা।

জেসিকা ক্যাভানেজ নামের ২০ বছরের এক ভদ্র মহিলাকে প্রায়ই ট্রেনে করে ল্যাইচেস্টার থেকে বার্মিংহামে যাতাযাত করতে হয়। আর এসময় প্রায়ই তার সহযাত্রীরা ফোনে তাদের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে জোরে জোরে কথা বলা শুরু করেন। কারো ব্যক্তিগত এসব কথা শোনাটা খুব অস্বস্তিকর মনেহয় জেসিকার কাছে।

[X]

স্টিভ হোয়াইটের কাছেও ফোনে কথা বলার ব্যাপারটা খুব বিরক্তিকর লাগে। তিনি বলেন, আমি এক সহযাত্রীকে পেয়েছি, যে টানা ৪৫ মিনিট ধরে ২টি ফোনে কথা বলে যাচ্ছিল।

সহযাত্রীর খাওয়া নিয়ে আপত্তি তুলেছেন ডেভিড থরটন নামের ৬০ বছরের এক ব্যক্তি। ট্রেনে তার পাশে বসা এক মেয়ে তার সামনেই একের পর এক খাবার খেয়ে যাচ্ছিল। যেন ট্রেনে উঠেছেই খাবার জন্য! এমনকি এর মধ্যে ছিল কাঁচা মাছও।

মাইকেল বয়েড নামের আরেক একজন লিখেছেন, তিনি প্রায়ই লক্ষ করেন, সহযাত্রীরা ট্রেনে উঠে সাজুগুজু করতে লেগে যায়। ফেস পাউডার মাখে কিংবা কড়া কোনো পারফিউম খুলে বসে।

যাত্রাকালে যা করবেন:
১. ফোনে অপ্রয়োজনীয় কথা বলা থেকে বিরত থাকুন। খুব দরকারি কিছু হলে অল্প কথায় নিচু স্বরে আলাপ সেরে ফেলুন।
২. অথবা ম্যাসেজ লিখেও দরকারি কাজ সারতে পারেন।
৩. স্বল্প সময়ের জন্য যাত্রাকালে ঘ্রাণ বা গন্ধ ছড়ায় কিংবা খোসাযুক্ত খাবার পরিহার করুন।
৪. অপরিচিত সহযাত্রীর সাথে খুব দরকার না হলে কথা না বলাটাই শ্রেয়। আর প্রথম সাক্ষাতেই ব্যক্তিগত প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকুন।
৫. বিনা অনুমতিতে সহযাত্রীর দরকারি জিনিস যেমন- মোবাইল চার্জার, পাওয়ার ব্যাংক কিংবা পানির বোতল ব্যবহার করবেন না।
৬. ট্রেন বা বাসের জানালা খোলা বা বন্ধের দরকার হলে সহযাত্রীর অনুমতি নিন।
৭. রাতে যাত্রার সময় আলো জ্বালানোর ব্যাপারে সতর্ক হোন।
৮. বন্ধু-বান্ধব মিলে একসাথে যাত্রা করার সময় নিজেদের মধ্যে যতটা সম্ভব ব্যক্তিগত কথা বলা থেকে বিরত থাকুন।
৯. সময়ে উচ্চ স্বরে গান শোনা বা ভিডিও দেখা থেকে বিরত থাকুন।
১০. ফ্রেশ হওয়ার প্রয়োজন পড়লে কিংবা আয়নায় মুখ দেখার দরকার হলে ট্রেনের নির্ধারিত রেস্ট রুম কিংবা ওয়াশরুম ব্যবহার করুন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY