মুক্তিযোদ্ধাদের সুবিধার আওতা বাড়াতে সংসদে বিল

0
38

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক সোমবার বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। পরে বিলটি পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়া জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

বিলে বলা হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধার অবর্তমানে তার স্ত্রী বা স্বামী, তাদের অবর্তমানে মুক্তিযোদ্ধার পিতা-মাতা, তাদের অবর্তমানে সন্তান সুবিধা পাবেন। আর তাদের অবর্তমানে সুবিধা পাবেন মুক্তিযোদ্ধার ভাই-বোন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় সামরিক বাহিনী, পুলিশ, আনসারসহ বিভিন্ন বাহিনীতে যারা কর্মরত ছিলেন, প্রস্তাবিত আইনে তাদের মুক্তিযোদ্ধা ভাতার আওতায় আনা হচ্ছে।

বিলে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা নির্ধারণ করে বলা হয়েছে, “জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক স্বাধীনতার ঘোষণায় সাড়া দিয়ে ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও জামায়েতে ইসলামী এবং তাদের সহযোগী রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশ গ্রহণ করেছে এরূপ সকল বেসামরিক নাগরিক এবং সশস্ত্র বাহিনী, মুজিব বাহিনী, মুক্তি বাহিনী ও অন্যান্য স্বীকৃত বাহিনী, পুলিশ বাহিনী, ইপিআর, নৌ কমান্ডো, আনসার বাহিনীর সদস্য যাদের বয়স সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বয়সসীমার মধ্যে, তারা বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গণ্য হবেন।”

এছাড়া যারা মুক্তিযদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশের সীমানা অতিক্রম করে ভারতের বিভিন্ন অংশে প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে নাম অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন; পেশাজীবীদের মধ্যে যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় বিদেশে অবস্থানকালে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশেষ অবদান রেখেছিলেন এবং যেসব বাংলাদেশি নাগরিক বিশ্বজনমত গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন, তারাও এই সংজ্ঞায় পড়বেন।

[X]

যারা মুজিবনগর সরকারের অধীন কর্মকর্তা বা কর্মচারী বা দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন; মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ও মুজিবনগর সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত সকল এমএনএ ও এমপিএ, যারা পরে গণপরিষদের সদস্য হিসেবে গণ্য হয়েছিলেন; পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগী কর্তৃত নির্যাতিত সকল নারী; স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সকল শিল্পী ও কলা-কুশলী এবং দেশ ও দেশের বাইরে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে দায়িত্ব পালনকারী সকল বাংলাদেশি সাংবাদিক, স্বাধীনবাংলা ফুটবল দলের সকল খেলোয়াড় এবং মুক্তিযুদ্ধে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎ সেবাদানকারী মেডিকেল টিমের সকল ডাক্তার, নার্স ও চিকিৎসা সহকারী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিবেচিত হবেন।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, এতদিন মুক্তিযোদ্ধা ভাতার বিষয়টি পরিচালিত হচ্ছিল ১৯৭২ সালের ‘প্রেসিডেন্ট’স অর্ডার’ দিয়ে। কিন্তু সেখানে প্রতিরক্ষা বাহিনী, পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত সদস্য বা সরকারি পেনশনভোগী অথবা যাদের নিয়মিত আয়ের উৎস আছে- তারা অন্তর্ভুক্ত না থাকায় তাদের সম্মানী ভাতা দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না।

“সকল বীর মুক্তিযোদ্ধার কল্যাণসাধনকল্পে ওই অর্ডার রহিত করে পরিমার্জন করে যুগোপযোগী করে নতুন আইন করা আবশ্যক।”

‘জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ বিল উত্থাপন

দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টির চলমান প্রক্রিয়া আরও বেগবান করতে ‘জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল-২০১৮’ সংসদে উত্থাপন করেছেন সংসদ কাজে প্রধামন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী।

পরে বিলটি তিন কার্যদিবসের মধ্যে পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়।

প্রস্তাবিত ‘জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে কাজ করবে। একজন নির্বাহী চেয়ারম্যান ও চারজন সদস্যের সমন্বয়ে এই কর্তৃপক্ষ গঠন করা হবে। চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সরকার নিয়োগ দেবে, চাকরির মেয়াদ ও শর্ত সরকার নির্ধারণ করবে।

এই কর্তৃপক্ষ জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতি ও কৌশল, কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করাসহ ১০টি কাজ করবে। পরিচালনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ৩০ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ে কমিটি থাকবে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY