শাহ আবদুল করিম স্মরণে গান

0
5

আজ ১২ সেপ্টেম্বর বাউল শাহ আবদুল করিমের মৃত্যুদিবস। ২০০৯ সালের আজকের দিনে সিলেটে তিনি মারা যান। বাউলগানের এই কিংবদন্তি শিল্পীকে স্মরণ করা হবে আজ বুধবার বাংলাভিশনের ‘মিউজিক ক্লাব’ অনুষ্ঠানে। রাত ১১টা ২৫ মিনিটে শুরু হবে অনুষ্ঠান। এখানে বাউল শাহ আবদুল করিমের গান গাইবেন নতুন প্রজন্মের শিল্পী আশিক ও দীপা।

বাংলাভিশন থেকে জানানো হয়েছে, আশিক ও দীপা আজকের অনুষ্ঠানে বাউল শাহ আবদুল করিমের জনপ্রিয় কিছু গান গাইবেন। এখানে দর্শকেরাও গানের ব্যাপারে অনুরোধ করতে পারবেন।

শাহ আবদুল করিম ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই থানার ধলআশ্রম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। দারিদ্র্য আর জীবনসংগ্রামের মাঝে বড় হওয়া বাউল শাহ আবদুল করিমের সংগীত সাধনার শুরু ছেলেবেলা থেকেই। এই বাউল শিল্পীর প্রেরণা তাঁর স্ত্রী, যাঁকে তিনি আদর করে ‘সরলা’ নামে ডাকতেন। ১৯৫৭ সাল থেকে শাহ আবদুল করিম উজানধল গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

[X]

ভাটি অঞ্চলের মানুষের জীবনের সুখ, প্রেম ও ভালোবাসার পাশাপাশি শাহ আবদুল করিমের গান কথা বলে সব অন্যায়, অবিচার, কুসংস্কার আর সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে। তিনি গানের অনুপ্রেরণা পেয়েছেন ফকির লালন শাহ, পাঞ্জু শাহ ও দুদ্দু শাহর দর্শন থেকে। যদিও দারিদ্র্য তাঁকে বাধ্য করে কৃষিকাজে তাঁর শ্রম ব্যয় করতে, কিন্তু কোনো কিছু তাঁকে গান সৃষ্টি করা থেকে বিরত রাখতে পারেনি। তিনি বাউলগানের দীক্ষা লাভ করেন সাধক রশীদ উদ্দীন, শাহ ইব্রাহীম মস্তান বকশের কাছ থেকে। তিনি শরিয়ত, মারফত, দেহতত্ত্ব, গণসংগীতসহ বাউলগান এবং গানের অন্যান্য শাখার চর্চা করেছেন।

শাহ আবদুল করিমের গান ভাটি অঞ্চলে জনপ্রিয় হলেও শহরের মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পায় তাঁর মৃত্যুর কয়েক বছর আগে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি পাঁচ শতাধিক গান লিখেছেন। শাহ আবদুল করিমকে ২০০১ সালে একুশে পদক দেওয়া হয়। এ ছাড়া মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার আজীবন সম্মাননা (২০০৪), সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস আজীবন সম্মাননা (২০০৫), বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননাসহ (২০০৮) অসংখ্য সম্মানে তাঁকে ভূষিত করা হয়।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY