
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের জব্দ করা ইলিশ মাছ এতিমখানা ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায় বিতরণের ইলিশ নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় মাদ্রাসা শিক্ষকসহ দুজনকে মোট ৮০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক অভিযান চালিয়ে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া মাছ জব্দ করে পরে অন্যত্র দিয়ে দেওয়া হয়। এসময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাথে ছিলেন গলাচিপা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬’ বাস্তবায়নে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে গলাচিপার বিভিন্ন নদী থেকে অবৈধভাবে আহরণ করা প্রায় ২৫ কেজি ইলিশ ও অন্যান্য মাছ জব্দ করা হয়। এ সময় উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দল উপস্থিত ছিল। পরে রতনদী তালতলী ইউনিয়নের বন্যাতলী খেয়াঘাট-সংলগ্ন এলাকায় মোহাম্মাদিয়া ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসাসহ অন্য দুটি এতিমখানায় মাছগুলো বিতরণ করা হয়। বিতরণকৃত মাছ ওই মাদ্রাসা শিক্ষক মো. আব্দুল্লাহ এবং আবুল হোসেন ভাগাভাগি করে নিজেদের বাড়ি নিয়ে যায়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্টেট আবুজর মো. ইজাজুল হক অভিযান চালিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষক মো. আব্দুল্লাহ এবং আবুল হোসেনের বাড়ি থেকে মাছগুলো জব্দ করেন।
অভিযানকালে মোহাম্মদ ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসাটি তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। পরে মাদ্রাসার শিক্ষক মো. আব্দুল্লাহ (২৭) ও আবুল হোসেনকে (৫৫) ডেকে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনাটির সত্যতা পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমাণ আদলতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুজর মো. ইজাজুল হক দুজনকে ৪০ হাজার টাকা করে মোট ৮০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
এ বিষয়ে মাদ্রাসা শিক্ষক মো. আব্দুল্লাহ জানান, তিনি ও আবুল হোসেন মাছগুলো ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। অন্য দুটি মাদ্রাসায় বিতরণ করা মাছ যথাযথভাবে পৌঁছেছে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন বলেন, মাছগুলো প্রতিষ্ঠানে না দিয়ে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হওয়ায় দুজনকে ৪০ হাজার টাকা করে মোট ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, সরকারি সম্পদ হোক কিংবা জনকল্যাণে নিবেদিত কোন সহায়তা হোক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নৈতিকতার চর্চা নিশ্চিত করতে হবে। জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোন উদ্যোগের অপব্যবহার কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
মন্তব্য করুন