জেলে তালিকায় নাম ওঠাতে জাল নৌকাসহ হাজির হয়েছে জেলেরা। বিগত দিনে এ তালিকা নিয়ে নানান অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় এমনই পরিকল্পনা নিয়েছেন প্রশাসন। মঙ্গলবার সকালে গলাচিপা পৌর এলাকার জেলে তালিকার মাঠ পর্যায়ে যাঁচাই বাছাই করা হয়। আর জাল নৌকা নিয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন যাঁচাই বাছাই কমিটি।
জেলে ও উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে গলাচিপা পৌর এলাকার জেলে তালিকায় নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে একাধিকবার জেলেদের মধ্যে বিভিন্ন বিবাদেরও সৃষ্টি হয়। তাই প্রকৃত জেলেদের সনাক্ত ও যাঁচাই বাছাইয়ের জন্য গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুজর মো. ইজাজুল হক ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দেন। এ কমিটি মাঠ পর্যায়ে যাঁচাই বাছাই করে সাত কার্যাদিবসের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। যাঁচাই বাছাই কমিটির আহ্বায়ক উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার মো. জহিরুন্নবী, সদস্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. গোলাম সগীর, উপজেলা আইসিটি অফিসার মো. ইউসুফুল ইসলাম, গলাচিপা পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আবু আউয়াল এবং গলাচিপার জাতীয় ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি-সম্পাদক। এ কমিটি পৌর এলাকার সকল জেলেদের উপস্থিতিতে যাঁচাই বাছাই কার্যক্রম চালাচ্ছেন।
পৌর এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ডের জেলে মো. বাদল বলেন, তালিকায় নাম দেওয়ার লাইগ্যা সকাল থেইক্কা বইয়া আছি। দুপুর হইয়া গ্যাছে। হারাদিনেও এ কাম শ্যাষ হইবে কি না জানি না। নাম দেওয়ার লাইগ্যা আইজগোর কামাই করতে পারি নাই।
পৌর এলাকার জেলে নাসিমা বলেন, এর আগেও আমার নাম আছিল। আগের তালিকা নাকি বাদ করে দিবে। তাই আজ আইলাম নাম দিতে। আমরা স্বামী স্ত্রী দুইজনই এক লগে নদীতে জাল দিয়া মাছ ধরি। তাই এক লগেই দুইজন আইছি।
এ প্রসঙ্গে যাঁচাই বাছাই কমিটির আহবায়ক উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার মো. জহিরুন্নবী বলেন, আমরা এর আগে জেলেদরে বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে আবেদন নিয়ে নামের তালিকা করতাম। এবার সরেজমিনে সকল জেলেদের জাল নৌকাসহ থাকতে বলেছি। এতেকরে একদিন তাদের কষ্ট হলেও প্রকৃত জেলেরা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে। তিনি আরো বলেন, এর আগে পৌর এলাকায় প্রথমে ২৬৭ জনের তালিকায় নাম ছিল, পরে আবার এ তালিকায় ৪৯৩ জনের নাম আসে। জেলেদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রকৃত জেলেদের বাছাই করতেই এ প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন