বাম হাতে ছাতা, ডান হাতে কলম নিয়ে শ্রেণি পরীক্ষা দিচ্ছে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। সোমবার বৃষ্টির মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে শ্রেণি পাঠে অংশ নিতে ভয় পাচ্ছে গলাচিপার কোটখালী ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। তাদের এ চরম দুর্ভোগ নিয়ে রয়েছে ক্ষোভ। ১৯৮১ সালে মাদ্রাসার ভবনটি স্থাপিত হলেও ওই সময় পুর্ণাঙ্গ কাজ না করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অপরদিকে শিক্ষকরাও এ ঘটনায় বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ওই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মাওলানা মো. নজির আহমেদ।
জানা গেছে, গলাচিপা উপজেলার চিকনিকান্দি ইউনিয়নের কোটখালী ফাজিল মাদ্রাসাটি ১৯২৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর পর ১৯৮১ সালে একটি একতলা ভবন হলেও ওই সময় ভবনটির পূর্ণাঙ্গ কাজ করা হয়নি। ফলে ভবনটির ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ে, ছাদের পলেস্তরা খসে গেছে, দরজা জানালা নেই। এতেকরে শিক্ষার্থীরা চরম ঝুঁকি নিয়ে শ্রেণি পাঠে অংশ নিচ্ছে। অপর দিকে প্রতিষ্ঠানটিতে আরেকটি বহুতল ভবনের নির্মাণ কাজ চললেও তা অত্যন্ত ধীর গতি। কবে নাগাদ নতুন ভবনের কাজ শেষ হবে তা জানেন না প্রতিষ্ঠানের কেউই।
কোটখালী ফাজিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল শেখ মুগ্ধ বলেন, প্রবল বর্ষণের মধ্যে আমরা শ্রেণি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছি। অতিবৃষ্টির কারণে মাদ্রাসার ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ে। মাদ্রাসা থেকেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বৃষ্টির কারণে আমাদের বেঞ্চ ভিজে যায়, পরীক্ষার খাতা ভিজে যাচ্ছে। তাই আমরা মাথায় ছাতা ধরে পরীক্ষা দিচ্ছি।
মাদ্রাসাটির আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামন বলেন, ভবনের যে অবস্থা এই ভবনের মধ্যে বসে পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অনেক সময় স্বাভাবিক বর্ষার সময়ও রুমে বসা যায় না। মাঝে মাঝেই ছাদ থেকে পলেস্তরা খসে পড়ছে। বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনা ঘটেছে। কয়েকদিন ধরে প্রবল বর্ষণে মাথায় ছাতা ধরে পরীক্ষা দিতে বাধ্য হচ্ছি।
কোটখালী ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মাওলানা মো. ইয়াহিয়া খান বলেন, এখানে ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য যে পরিবেশের দরকার তা কোটখালী ফাজিল মাদ্রাসায় নেই। আজকেও পরীক্ষাসহ এর আগের পরীক্ষাগুলোতে শিক্ষার্থীরা বৃষ্টির মধ্যে মাথায় ছাতা দিয়ে পরীক্ষা দিয়েছে। ভবনের অব্যবস্থাপনার কারণে আমাদের শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনায় মারাত্মক ত্রুটি হচ্ছে। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করছি লেখা পড়ার মান উন্নয়নের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
কোটখালী ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. নজির আহমেদ বলেন, আমরা বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে রয়েছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। নতুন যে ভবনটি হচ্ছে সেটি যদি দ্রুত আমাদের কাছে হস্তান্তর করে তাহলে এ সঙ্কট থেকে রেহাই পাবো।
এ প্রসঙ্গে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, বিষয়টি আমরা আজই শুনলাম। সবার সাথে আলোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন