পটুয়াখালীর গলাচিপায় খাস জমিতে গণঅধিকার পরিষদের অফিস করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১৪ জন আহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার দুপুরে উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের বাদুরা বাজারে। এ ঘটনায় আহতদের পটুয়াখালী ও গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গলাচিপা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এখন পরিবেশ শান্ত রয়েছে।
সংঘর্ষে আহতরা হলেন- কাওসার মৃধা (৪০), আবুবকর (২৯), শফিক (২৯), মনসুর (২৪), শাকিল (২৬), রেজাউল করিম (৩২), সামছুল আলম (২৮), শিহাব (২০), সুজন (২৫)।
জানা গেছে, আমখোলা ইউনিয়নের বাদুরা বাজারে স্থানীয় ব্যবসায়ী নুরুর গ্যারেজের পাশে খোকন মৃধার জমির সামনে রাস্তার পাশে সরকারি জমিতে ইউনিয়ন যুবঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক কাওসার মৃধার নেতৃত্বে ১০-১৫ জন গণঅধিকার পরিষদের দলীয় কার্যালয়ের জন্য ঘর নির্মাণ করছিল। এসময় বাদুরা বাজার সংলগ্ন পটুয়াখালী সদরের আউলিয়াপুর ইউনিয়নের বাবুল হাওলাদার, জাহাঙ্গীর মৃধা, সামচু, সোহাগসহ ঘর নির্মাণ করতে নিষেধ করেন। এ ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষে দুই পক্ষের ১৪ জন আহত হয়।
পটুয়াখালীর আউলিয়াপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বাবুল হাওলাদার জানান, বাদুরা বাজারে আমাদের জমি রয়েছে। শুক্রবার দুপুরে এমদাদের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন মিলে আমার ক্রয়কৃত জমিতে অবৈধভাবে জোর পূর্বক ঘর তুলতে যায়। আমরা বাঁধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে।
এ বিষয়ে আমখোলা ইউনিয়নের গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব এমদাদ হোসেন জানায়, সরকারি জমিতে গণঅধিকার পরিষদের অফিস নির্মাণ করতে গেলে বাবুল হাওলাদারের লোকজন হামলা চালিয়ে আমাদের ১০ জন কর্মী আহত করে।
অপরদিকে খোকন মৃধা জানান, আমার মালিকানাধীন জমির সামনে হাট বাজারের সরকারি চান্দিনা ভিটা রয়েছে। ওই জমির পাশেই বাবুল হাওলাদারের জমি। বাবুল হাওলাদার ওই সরকারি জমি জোর করে দখলে নিতে চায়।
খোন মৃধার স্ত্রী সাহিদা ইসলাম শান্তনা বলেন, এলাকার মজিদ মাষ্টারসহ কয়েকজনের কাছে আমি গেছি। দীর্ঘদিন ধরে আমি ভোগ দখল করতে পারি নাই। আমার জমি উল্টো তারা বিক্রি করে দিতে বলে। আমি গণঅধিকার করি তাই আমি অতিষ্ট হয়ে গণঅধিকারকে অফিস করতে দিছি। আজ এখানে ইপিজেড এর ঠিকাদার খোকনের নেতৃত্বে হামলা করে।
এ বিষয়ে আমখোলা ইউনিয়ন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন জানান, ঘটনাস্থলে না গিয়ে আমরা কিছুই বলতে পারব না। এ বিষয়ে আমার কিছুই জানা নাই।
এ প্রসঙ্গে গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোন পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
মন্তব্য করুন