পটুয়াখালীর গলাচিপায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপিত হয়েছে।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, দ্বাপর যুগে অধর্ম ও অত্যাচারের অবসান এবং ধর্ম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে মথুরায় কংসের কারাগারে মা দেবকীর গর্ভে শ্রীকৃষ্ণ জন্মগ্রহণ করেন।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, তার জন্মের সময় কারাগার অপূর্ব আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে। শ্রীকৃষ্ণের জন্মের পর তিনি প্রথমে চতুর্ভুজ রূপে দেবকী ও বসুদেবের সামনে আবির্ভূত হন। তাঁর হাতে ছিল শঙ্খ, চক্র, গদা ও পদ্ম। তিনি তাদের আশ্বস্ত করেন যে, তিনি তাদের সন্তান হিসেবে জন্ম নিয়েছেন এবং কংসের অত্যাচার থেকে পৃথিবীকে মুক্ত করবেন। পরে তিনি সাধারণ শিশুর রূপ ধারণ করেন।তাঁর জীবন ও কর্মে সত্য, ন্যায়, মানবতা ও ধর্মের শিক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে। তাই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে জন্মাষ্টমী শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার অনুপ্রেরণারও দিন।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় গলাচিপা কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি মন্দিরে পূজা-অর্চনা, চণ্ডীপাঠ ও যজ্ঞানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী আচার অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ভক্তরা অংশ নেন। ধর্মীয় মন্ত্রোচ্চারণ, প্রার্থনা ও ভক্তিগানের মধ্য দিয়ে মন্দির প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় এক পবিত্র আবহ।
বিকেল পাঁচটার দিকে কালীবাড়ি প্রাঙ্গণ থেকে বের হয় বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা। ঢাক-ঢোল, ধর্মীয় স্লোগান ও ভক্তদের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সাহা বাড়ি হয়ে পুনরায় কালীবাড়ি প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। শত শত নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে পুরো এলাকা হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।
গলাচিপা কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি কমিটির আহ্বায়ক রামকৃষ্ণ পালের সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব সুখরঞ্জন বণিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সোহরাব হোসেন মিয়া, কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইখতিয়ার রহমান কবির, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আশ্রাফুজ্জামান। এ ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দসহ সনাতন ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়েই প্রতিবছরের মতো এবারও শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে এ আয়োজন করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন