
গলাচিপায় হাম ও ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব প্রকট আকার ধারণ করেছে। ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত রোগী ভর্তি থাকায় ওয়ার্ডগুলোতে তৈরি হয়েছে ভীড়। এতে রোগীদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে হাম আক্রান্ত শিশুদের সঙ্গে ডেঙ্গু রোগীদের পাশাপাশি অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন রোগীর স্বজনরা। গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত এক মাসে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে ৫৪ জন এবং ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১০৩ জন ভর্তি হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. মেজবাহ উদ্দিন।
গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দেওয়া তথ্য মতে, ১ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে ৫৪ জন এবং ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১০৩ জন ভর্তি হয়েছিল। এরমধ্যে বর্তমানে আজ বুধবার পর্যন্ত হাম আক্রান্ত ২১ জন এবং ডেঙ্গু আক্রান্ত ৯ জন ভর্তি রয়েছে। গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ জন রোগীর ধারণ ক্ষমতা থাকলেও ভর্তি রয়েছে তিনগুণ অর্থাৎ ১৪৮ জন। অতিরিক্ত রোগী ভর্তি থাকায় সাধারণ রোগী ও সংক্রমিত রোগীদের আলাদা করে কোন কক্ষ বা বেড সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে রোগীরা করিডোর বা ফ্লোরের মেঝেতে চিকিৎসা সেবা নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
গলাচিপার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের চরবাংলা গ্রামের সালমা বেগম বলেন, ‘চারদিন আগে আমার মেয়ে সারামনি হামে আক্রান্ত হলে হাসপাতালে ভর্তি হই। কিন্তু আমার বাচ্চার পাশের বেডেই অন্য আরেকজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছে। পাশাপাশি দুই রোগী থাকায় আমি আমার মেয়ে নিয়া শঙ্কার মধ্যেই চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছি।’
ওই ইউনিটের সারামনির পাশের বেডে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন ডাকুয়া ইউনিয়নের বড়চত্রা গ্রামের এবাদুল মিয়া। তিনি বলেন, ‘আমি তিনদিন ধরে হাসপাতালে আছি। কিন্তু আমার চারপাশে হামের রোগী ভর্তি আছে। হাসপাতালের নার্সদের কাছে কয়েকবার মশারি চেয়েও পাইনি। হামে আক্রান্ত শিশুদের পাশাপাশি থাকতে আমারো খারাপ লাগে। কিন্তু চিকিৎসা তো নিতে হবে।’
এ প্রসঙ্গে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের এখানে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে তিনগুণ রোগী ভর্তি আছে। আমাদেরকে প্রতিদিনই এমন অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘হাম রোগীদের জন্য আলাদা পাঁচটি বেডের ব্যবস্থা করেছিলাম। কিন্তু অতিরিক্ত রোগীদের চাপে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। তার পরেও যতটুকু সম্ভব আমরা সেবা অব্যাহত রাখছি।’
মন্তব্য করুন