গলাচিপায় মামলার এজাহারভূক্ত আসামী গ্রেপ্তার করতে গেলে মব সৃষ্টি করে আসামী নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার চরকাজল ইউনিয়নের চরকপালবেড়া বাজারে। এঘটনায় ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ ইমতিয়াজ আহমেদ। তবে প্রকৃত কারণ স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন তিনি।
সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে গলািচপা উপজেলার চরকপালবেড়া বাজারে চরকাজল পুলিশ ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ৫জনের একটি দল মারামারি মামলার আসামী ফোরকান খানকে গ্রেপ্তার করেন। এসময় চরশিবা সাংগঠনিক ইউনিট যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হাতেম মাতুব্বর, সাবেক সদস্য খলিল হাওলাদার, ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি লিটু খানের নেতৃত্বে শতাধিক বিএনপির নেতাকর্মী মব সৃষ্টি করে এবং আসামীকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশকে বাঁধা দেয়। এসময় তারা উপ-পরিদর্শক কামাল হোসেনকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং আসামী গ্রেপ্তার না করেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য করেন।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে স্থানীয় দোকানদার মো. ফিরোজ খানের কাছে ফেরদৌস খান, মকবুল খান ও ফোরকান খান বাকিতে সিগারেট চাইলে তিনি পূর্বের টাকা দাবি করেন এবং বাকিতে সিগারেট বিক্রি করবে না বলে জানায়। এসময় মকবুল খান ও ফেরদৌস খান উত্তেজিত হয়ে দোকানদার ফিরোজ খানকে মারধর করে। উক্ত ঘটনার সময় ফোরকান খান পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। মারামারি দেখে স্থানীয় মেম্বার দুলাল খান ছাড়াতে আসলে তাকেও বেধরক মারধর করে। এ ঘটনায় ইউপি সদস্য মো. দুলাল খানের স্ত্রী হেনা বেগম বাদী হয়ে ৫ জনকে আসামি করে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) গলাচিপা থানায় মামলা করেন।
মামলার বাদী হেনা বেগমের দেবর তুহিন খান বলেন, পুলিশ মামলার আসামী ফোরকান খানকে গ্রেপ্তার করলে চরশিবা সাংগঠনিক ইউনিট যুবদলের নেতা হাতেম মাতুব্বর, খলিল হাওলাদার, লিটু খানের নেতৃত্বে শতাধিক বিএনপির নেতাকর্মী মব সৃষ্টি করে এবং আসামীকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়।
যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হাতেম মাতুব্বর বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে ছিলাম না। তবে মামলার আসামী ফোরকান খান ওই ঘটনার সাথে যুক্ত ছিলনা তাই এলাকার লোকজন তাকে (ফোরকান খান) গ্রেপ্তার না করার জন্য পুলিশকে অনুরোধ করে।
চর কাজল পুলিশ ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক কামাল হোসন জানায়, খবর পেয়ে চরশিবা বাজারে আসামী ধরতে যাই, তবে আমাদের আসার খবর পেয়ে আসামী ওই এলাকা থেকে চলে যায়।
গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন