বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে গলাচিপার ১১ জন জেলেসহ ফিশিং ট্রলার ডুবে যায়। পরে ৫ জন জেলেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও অপর ৬ জন জেলে এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়। রবিবার রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে ওই রাতেই উদ্ধার হওয়া ৫জন জেলেকে গলাচিপা নিয়ে আসা হচ্ছে। আজ সোমবার দুপুরের দিকে উদ্ধার হওয়া জেলেরা সাগরে মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়ার পর গলাচিপা থানায় খবরটি জানান বলে নিশ্চিত করেছেন অফিসার ইনচার্জ মো. ইমতিয়াজ আহমেদ।
উদ্ধার হওয়া জেলেদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারের জন্য ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন তৎপরতা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুজর মো. ইজাজুল হক।
ফিশিং ট্রলারে নিখোঁজ ৬ জন জেলেরা হলেন গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নের দক্ষিণ পানপট্টি গ্রামের মৃত গেদু হাওলাদারে ছেলে মো. হারুন হাওলাদার, পানপট্টি গ্রামের মো. এমাদুল, গজালিয়া ইউনিয়নের ইচাদী গ্রামের মো. ফোরকান. মো. সায়েম ও মো. আল আমিন, গলাচিপা সদর ইউনিয়নের পক্ষিয়া গ্রামের মো. আকাশ।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গলাচিপার পানপট্টি ইউনিয়নের মো. এমাদুল সিকদারের মালিকানাধীন ফিশিং বোর্ডসহ ১১ জন জেলে নিয়ে চারদিন আগে গত বৃহস্পতিবার গভীর বঙ্গোপসাগরে ইলিশ মাছ শিকারে যায়। রবিবার বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে এমাদুল সিকদারের ট্রলারটি ১১জন জেলে নিয়ে ডুবে যায়। পরে পাশে থাকা অন্য ট্রলারের জেলেরা ৫জনকে উদ্ধার করলেও বাকি ৬জন জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া জেলেরা তাদের পরিবারকে জানায়। পরে ট্রলার মালিক এমাদুলের পরিবারের পক্ষ থেকে আজ সোমবার দুপুরে গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জকে বিষয়টি অবহিত করেন। তবে উদ্ধার হওয়া জেলেরা এখনো গভীর সমুদ্রে রয়েছেন। তাদের ফিরতে আরো কয়েক ঘন্টা সময় লাগবে।
এ বিষয়ে গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ট্রলার মালিক এমাদুলসহ ১১জন গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যায়। ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলাটি ডুবে যায়। ওই ট্রলারের উপরে যে ৫জন ছিলেন তাদেরকে উদ্ধার করা হয়েছে। ট্রলারের ভিতরে যে ৬জন ছিল তাদেরকে এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা যায়নি। এসব তথ্য ট্রলার মালিক এমাদুলের পরিবারের পক্ষ থেকে থানাকে জানানো হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, আমরা উদ্ধার হওয়া জেলেদের সাথে কথা বলেছি। এখনো নিখোঁজ ৬ জন জেলেকে উদ্ধারের জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে তৎপর রয়েছি। আহত যারা আছেন তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগকে বলা হয়েছে।
মন্তব্য করুন