সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের তিন কর্মীকে গ্রেফতার করেছে গলাচিপা থানা পুলিশ। শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় পটুয়াখালী-গলাচিপা আঞ্চলিক সড়কের আমখোলা বাজার সংলগ্ন এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এসময় তারা ২ থেকে ৩ মিনিট সড়কে অবস্থান করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে। পরে এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ করে কিছু তরুণ আমখোলা বাজার সংলগ্ন আঞ্চলিক সড়কে অবস্থান নেয়। এরপর তারা একটি সেতুর ওপর দুটি টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে। এসময় ‘পুলিশ হত্যার বিচার চাই’ লেখা একটি ব্যানার সামনে ধরে ২ থেকে ৩ মিনিটের একটি বিক্ষোভ মিছিল করে তারা এলাকা ত্যাগ করে।
এসময় তাদের বলতে শোনা যায়,‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে।’ এছাড়াও মিছিলে অংশ নেওয়া তরুণেরা বাংলাদেশের উন্নয়নের পেছনে শেখ হাসিনার অবদান উল্লেখ করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে।
মিছিলের দুই মিনিটের একটি ভিডিও পাওয়া গেছে। এতে দেখা যায়, ব্যানারে ‘প্রত্যাবর্তন-২.০’, ‘আলো আসবেই’ এবং ‘পুলিশ হত্যার বিচার চাই’ লেখা রয়েছে। ব্যানারে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ এবং পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সংগঠন পরিচয় উল্লেখ করে রুবেল গাজীর নাম রয়েছে। তবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, বিক্ষোভে অংশ নেয়া তরুনেরা সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ও জেলা ছাত্রলীগের সংগঠন পরিচয় দেয়া রুবেল গাজীর অনুসারী।
তবে, এ মিছিলের ভিডিও দেখে গলাচিপা থানা পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছেন। এরা হলেন উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের দরিবাহেরচর গ্রামের মুজিবুর রহমানের ছেলে মো. ইমরান হোসেন (১৯), একই ইউনিয়নের উত্তর আমখোলা গ্রামের গফুর খানের ছেলে জাহিদ খান ও গলাচিপা পৌর এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামবাগের জালাল আহমেদের ছেলে সালে আহমেদ শান্ত।
এ বিষয়ে গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ,‘আমখোলা ইউনিয়নটি গলাচিপা উপজেলা থেকে বিচ্ছিন্ন একটি এলাকা। তবে ছাত্রলীগের ব্যানারে বিক্ষোভ করা ব্যক্তিদের বিষয়ে খোঁজ-খবর নেয়া তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়াও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনী প্রকিয়া চলছে।
মন্তব্য করুন