পটুয়াখালীর গলাচিপায় মার্জিায়া (২০) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের চর সুহুরী গ্রামে। ঘটনার পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই গৃহবধূকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এ ঘটনায় গৃহবধূ মার্জিয়ার বাবা মো. আলতাফ হোসেন হাওলাদার (৪৮) বাদী হয়ে শুক্রবার গলাচিপা থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মার্জিয়ার স্বামী রাসেল হাওলাদার ও রাসেলের বন্ধু লিমনকে প্রধান আসামী করে ৪জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতদের আসামী করা হয়। মামলার ঘটনার সত্যতা স্বাীকার করেন গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো. জিলোন সিকদার।
আসামীরা হলেন স্বামী রাসেল হাওলাদার (২৫), রাসেলের বন্ধু লিমন (২৫), রাসেলের বাবা মো. বাচ্চু হাওলাদার (৪৭) ও মা মোসা. মাসুমা বেগম (৪৪)।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গলাচিপা থানাধীন গোলখালী ইউনিয়নের চর হরিদেবপুর গ্রামের মো. বাচ্চু হাওলাদারের ছেলে মো. রাসেল হাওলাদারের সাথে একই এলাকার আলতাফ হোসেন হাওলাদারের মেয়ে মার্জিয়ার সাথে প্রায় আড়াই বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই রাসেলের বাবা বাচ্চু হাওলাদার ও মা মাসুমা বেগম প্রায়ই মার্জিয়াকে পারিবারিক বিষয় নিয়ে মানসিক চাপ সৃষ্টি করতো। এতে মার্জিয়া মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এদিকে, মার্জিয়ার স্বামী রাসেল ও তার বন্ধু লিমন দীর্ঘদিন ধরে একসাথে মাদক সেবন করে আসছিল। মার্জিয়া তার স্বামীকে মাদক সেবন ও বন্ধু লিমনের সাথে মিশতে বাধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রাসেল মার্জিয়াকে প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত। পরবর্তীতে মার্জিয়া বিষয়টি তার শ্বশুর ও শ্বাশুড়িকে জানালে তারা বিষয়টি আমলে না নিয়ে উল্টো তাকে (মার্জিয়া) বিভিন্ন ধরণের অপমানজনক কথা শুনাত।
মামলায় আরো বলা হয়, ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাসেলের বন্ধু লিমন তাদের (রাসেলের) ঘরে আসে। তখন মার্জিয়া লিমনকে ঘরে দেখতে পেয়ে স্বামীর কাছে জানতে চায়-লিমন কেন ঘরে এসেছে? তখন রাসেল উত্তেজিত হয়ে মার্জিয়াকে অকথ্য ভাষায়কে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ বিভিন্ন ধরণের অপমানজনক কথাবার্তা বলেন। এর পর রাসেল বন্ধু লিমনকে নিয়ে বাইরে চলে যাওয়ার সময় মার্জিয়া যেতে বাধা দেয়। এসময় রাসেল পুণরায় মার্জিয়াকে গালিগালাজ করে। পরবর্তীতে ঘটনাটি শ্বশুর ও শ্বাশুড়িকে জানালে তারাও গালাগালসহ অপমানজনক কথাবার্তা বলেন। এতে অভিমানে মার্জিয়া গলায় ফাঁস দিয়ে আত্ম হত্যার পথ বেছে নেয় বলে অভিযোগ করা হয়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এ ঘটনায় গৃহবধূ মার্জিয়ার বাবা আলতাফ হোসেন গলাচিপা থানায় একটি আত্মহত্যা প্ররোচণার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
এ প্রসেঙ্গে গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো. জিলোন সিকদার বলেন, আত্মহত্যার প্ররোচণার অভিযোগে গলাচিপা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন