‘এলাকায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কিছু মানুষ ভালো কাজেও বেঁকে বসে। আপনারা জানেন এবার যা কাজ হয়েছে তা গ্রামের মানুষকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার জন্য। যারা কাজ করেছে তারাও কিছু লাভবান হয়েছে। কিন্তু বিগত দিনে এ ফান্ড থেকে কয় টাকার কাজ হয়েছে- কী কাজ হয়েছে তা আপনারা সবাই জানেন। যেখানে যার যেটুকু কাজ করার কথা সেটুকু যেন ঠিক মতো করেন। আমি ইউএনও সাহেবকে বলবো- প্রত্যেকটি রাস্তাঘাটের যেখানেই অভিযোগ পাবেন সেখানেই যাবেন। প্রয়োজনে জরিমানা করে দিবেন।’
শনিবার বেলা ১২টায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, ‘এলাকার ইনিয়ন পরিষদের মেম্বার চেয়ারম্যানরা আছেন সবাই বসে এলাকার রাস্তাঘাটের দুর্ভোগ লাঘবের ক্ষেত্রে এলাকার নেতৃবৃন্দ নিয়ে যারা বুঝেন তাদের নিয়ে কাজ করবেন। নলুয়াবাগী ব্রিজের টাকা প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে, এটা শুরু হয়ে যাবে। এলাকার উন্নয়নের জন্য কোনটা কোন প্রকল্পে যাবে এগুলো যারা বুঝে তাদের সাথে নিয়ে নিবেন। এলাকায় যারা প্রতিনিধি রয়েছেন তাদের নিয়ে তিন ক্যাটাগরিতে তালিকা করবেন। এ এলাকার রাস্তাঘাট, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার তালিকাও করে নিবেন। ধারাবাহিকভাবে সব কাজই হবে।’
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গলাচিপা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, প্রশাসকদের ও মেম্বারদের সাথে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বেলা ১২ টায় উপজেলা পরিষদের সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবনের হল রুমে এ মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুজার মো. ইজাজুল হকের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ ইমতিয়াজ আহমেদ, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা, গণঅধিকার পরিষদের উপজেলা শাখার আহবায়ক হাফিজুর রহমান, সদস্য সচিব মো. জাকির হোসেন মুন্সিসহ বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের স্থানীয় অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী।
মতবিনিময় সভায় মাঠপর্যায়ের জনপ্রতিনিধিরা তাদের এলাকার উন্নয়নমূলক নানা সমস্যার পাশাপাশি প্রশাসনিক ও সামাজিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন। এছাড়াও ৫ আগস্ট-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সামাজিক মর্যাদা হারানোর ক্ষোভ প্রকাশ করেন একাধিক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান। তাদের দাবি, মাঠপর্যায়ে কাজের পরিবেশ জটিল হয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কাঙ্খিত সম্মান পাচ্ছেন না তারা।
একই সাথে চরম বৈষম্যের অভিযোগ তোলেন পরিষদগুলোর সংরক্ষিত নারী সদস্যরা। তিন ওয়ার্ডের দায়িত্ব পালন করলেও তারা পুরুষ সদস্য ও ইউপি থেকে উপযুক্ত সম্মান এবং ন্যায্য উন্নয়ন বরাদ্দ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ জানান। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক ধাপে ধাপে সব সমস্যার সুষ্ঠু সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন এবং সবাইকে একসাথে এলাকার উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানান।
মন্তব্য করুন