
গলাচিপায় টাকার বিনিময়ে গরু চোরের সাথে দফারফা করলেন শালিসদাররা। ঘটনাটি ঘটেছে সোমাবার রাতে গলাচিপা উপজেলার রতনদী তালতলী ইউনিয়নের কাটাখালী বাজারে। পুুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও রহস্যজনকভাবে নিরব ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ করছেন এলাকাবাসী।এ ঘটনায় গরু খামারী ও সাধারণ কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
রতনদী তালতলী ইউনিয়নের গ্রামর্দ্দন এলাকার গরুর মালিক শাহ আলী জানায়, গত রবিবার দিবাগত ভোররাতে (১০ আগস্ট) তার গোয়াল ঘর থেকে একটি গাভীন গরু চুরি হয়। একই রাতে ওই এলাকার জামাল মাতব্বরেরও একটি গরু চুরি হয়। দিনের বেলা বিষয়টি জানা জানি হলে অভিযুক্তদের ধরার জন্য প্রচেষ্টা চালায়। এদিকে বিরু বিশ্বাসকে সন্দেহ করে গরুর মালিকরা। এর পর বিরু বিশ্বাসকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি চুরি করার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন এবং চুরির ঘটনায় একই এলাকার ফজলু সরদার নামের আরেক ব্যক্তি জড়িত বলে সবার কাছে স্বীকার করেন। এর পর দিনের বেলায় অনেকেই সোমবার ভোরে মুসল্লিরা ফযরের নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত গরু চোর বিরু বিশ্বাসকে একটি অটো রিক্সায় গরু নিয়ে যেতে দেখেছেন।এর পর সোমবার রাতে রতনদী তালতলী ইউনিয়ন পরিষদে অভিযুক্তদের ডেকে নেওয়া হয়। অভিযুক্তরা গরু দুটি পাশের উপজেলা বাউফলের কালাইয়া বাজারে ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিরু বিশ্বাস।
এদিকে এ চুরির ঘটনায় সোমবার রাতে রতনদী তালতলী ইউনিয়ন পরিষদে একটি শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে শালিসদার ছিলেন ওই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, সমাজ সেবক জামাল মোল্লা, রিয়াজুল ইসলাম, বাবুল গাজী, জহিরুল হাওলাদার এবং ওয়াব হাওলাদার প্রমুখ। তারা বলেন, চোরকে থানায় দেয়া উচিত ছিল কেন চোরকে থানায় দেয়া হলো না, এতে চোরের উপদ্রব বেরে যাবে জনসাধারনে ধারনা।
শালিস বৈঠকে গরু চুরির অপরাধে অভিযুক্ত বিরু বিশ্বাস ও ফজলু সরদারকে ৫০ বার কান ধরে ওঠবস ও ২০টি বেত্রাঘাত এবং জরিমানা বাবদ এক লক্ষ ৮০হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। রায় কার্যকর করার জন্য ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদার নওয়াব আলীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ওই মসলিসেই তিনি অভিযুক্তদের বেত দিয়ে প্রহার করেন এবং কান ধরে ওঠবস করান।
ওই ঘটনার শালিসদার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, গরু চুরির অপরাধে বিরু বিশ্বাস ও ফজলু সরদারকে একে অপরের কান ধরিয়ে ৫০ বার ওঠবস করানো হয়েছে এবং ২০টি করে বেত্রাঘাত করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্তদের থানা পুলিশের হাতে না দিয়ে এলাকার ঘটনা নিজেরাই মিমাংসা করছি।
গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, গরু চুরির ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন