পটুয়াখালীর গলাচিপায় শত প্রতিকূলতার মাঝেও রোপা আমনে কৃষকের বাম্পার ফলনের আশা। বাংলাদেশ একটি কৃষি সমৃদ্ধ দেশ। এ দেশের শতকরা আশি ভাগ লোক কৃষিকাজের সাথে জড়িত আছে। তারই ধারাবাহিকতায় গলাচিপা উপজেলার মানুষও কৃষিকাজে জড়িত। এবছর উপজেলায় কৃষকের মনে আনন্দ বিরাজ করছে। জমির বীজের অবস্থা ভালো থাকায় তাদের এই আনন্দ মলিন হয়ে যায় যখন কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসে। গলাচিপা হলো বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের উপকূলীয় অঞ্চল। প্রতিবছরই এই অঞ্চল বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হয়ে থাকে। বিশেষ করে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস এর মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়ে থাকে। তবুও এই উপকূলীয় অঞ্চলের খেটে খাওয়া প্রান্তিক কৃষকরা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চাকাকে এগিয়ে নেয়ার জন্য হাড়ভাঙ্গা খাঁটুনি খেটে যাচ্ছে। তবে তাদের এই হাড়ভাঙ্গা খাঁটুনির পারিশ্রমিক পায়না তারা। একদিকে কৃষি কাজের উপকরণের দাম হাতের নাগালের বাইরে থাকে। এছাড়া তারা ফসল যখন ঘরে তুলে তখন দাম পায়না ঠিকভাবে। সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে এসব চিত্র দেখা গেছে।
প্রান্তিক কৃষকরা জানান, এবছর যদি ফসল তোলার আগে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না আসে তা হলে তারা আমনের বাম্পার ফলন আশা করছেন। তবে তাদের একটাই শঙ্কা ফসলের দামটা ঠিকভাবে পাবে কি না। তারা আরো জানান, এখানের আড়ৎদাররা ৪৮ থেকে ৫০ কেজিতে ধানের মণ হিসাব করেন। এতে করে কৃষকরা লাভবানের চেয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলায় রোপা আমন ধানের চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৬ হাজার ৪ হেক্টর জমি। এর মধ্যে উফসী জাতের রোপা আমন ধান ২৮ হাজার ৭ শত ৫০ হেক্টর জমি এবং স্থানীয় জাতের রোপা আমন ধান ৭ হাজার ২ শত ৫৪ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করা হয়েছে।
অন্যদিকে রাজস্ব খাতে ৫০ জন প্রান্তিক কৃষককে প্রদর্শনী দেয়া হয়েছে। এছাড়া উপজেলায় ১০ হাজার প্রান্তিক কৃষককে বিনামূল্যে সরকার কর্তৃক বরাদ্দকৃত প্রণোদনার আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৫ শত রোপা আমান ও বাকি ৫ হাজার ৫ শত কৃষককে অন্যান্য খাতে প্রণোদনা দেয়া হয়। এদের মধ্যে উফসী রোপা আমন ধানের বীজ ৫ কেজি, রাসায়নিক সার এমওপি ১০ কেজি ও ডিএপি ১০ কেজি হারে প্রণোদনা প্রদান করা হয়।
উপজেলা কৃষি অফিসার আরজু আক্তার বলেন, এবছর উপজেলায় রোপা আমন ধানের চাষাবাদ করতে কৃষকদের একটু সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়েছে। যখন চাষাবাদ করার সময় তখন অতিবৃষ্টিতে মাঠঘাট বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে থাকায় সময়মতো চাষাবাদ করতে পারেনি কৃষকরা। তবে তারা শতপ্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে পেরেছে। আমাদের অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা আছেন তারা সার্বক্ষণিক মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন এবং কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করছেন। তবে ফসল তোলার আগে যদি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয় তা হলে কৃষক ভাইয়েরা ফসল ভালোভাবে ঘরে তুলতে পারবেন এবং ফসল বিক্রি করে লাভবান হতে পারবেন বলে মনে করি।
মন্তব্য করুন