গলাচিপা উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের নলুয়াবাগীর ঢালীর বাজার থেকে নলুয়াবাগী মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার রাস্তাটি বর্ষা মৌসুমের ক্ষত বয়ে বেড়াতে হয় সারা বছরই। মাটির এ রাস্তাটি সামান্য বৃষ্টি হলেই হাঁটু সমান কাদায় সম্পূর্ণভাবে হাঁটা চলার অনুপযোগী হয়ে যায়। গ্রামের প্রধান এ রাস্তাটি প্রায় সারা বছরই চলাচলের অনুপযোগী থাকে। অসুস্থ রোগীকে নিতে হয় মরদেহ বহণ করা খাটে। ফলে শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ পথচারীসহ ৫ সহস্রাধিক মানুষের প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
নলুয়াবাগী গ্রামের যুবক রাব্বি বলেন, ‘প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি হলেও সড়কটি পাকাকরণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে দাবি জানিয়ে এলেও এখনো মিলেনি স্থায়ী সমাধান।’
একই এলাকার আরেক যুবক আবু সাঈদ বলেন, ‘আমাদের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। বছরের পর বছর ধরে একই সমস্যার মধ্যে বসবাস করছি। বর্ষা এলেই এই রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। অসুস্থ রোগী, স্কুলগামী শিশু থেকে কৃষকদেরও ভোগান্তি পোহাতে হয়। আমরা এখন রাস্তাটির কার্যকর ব্যবস্থা দেখতে চাই। আমরা আর কোন আশ^াসের বাণী শুনতে চাই না।’
পশ্চিম নলুয়াবাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. শের-ই জাহান রাজিবুল হক জানান, ‘এ রাস্তারিটর অবস্থা এতো করুণ ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। এই একটি রাস্তা দিয়েই আমাদের স্কুলে যাতায়েত করতে হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে চলাচলের অনুপযোগী থাকায় এখানে শিক্ষার্থীরা স্কুল বিমুখ হয়ে পড়ে।’
রাস্তাটি প্রসঙ্গে নলুয়াবাগী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মতিয়ার রহমান জানান, ‘বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাইকে হাঁটু সমান কাঁদা মাড়িয়ে আসতে হয়। অনেক সময় শিক্ষার্থীদের বই-খাতা, স্কুলব্যাগ ও পোশাক কাদায় নষ্ট হয়ে যায়। প্রতিদিন এভাবে বিদ্যালয়ে আসা তাদের জন্য খুবই কষ্টের।’ তিনি আরো জানান, ‘কয়েক দিন আগে মাহতাব ফরাজি নামের এক অসুস্থ বৃদ্ধকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় রাস্তাটিতে এতো পরিমাণ কাঁদা ছিলো যে সেই সময় চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। এসময় তাকে মরদেহের খাঁটে করে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিতে হয়েছে।’
এ প্রসঙ্গে গোলখালী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবদুল কাদের মিয়া বলেন, ‘আমাদের এলাকার ঢালির বাজার হয়ে একটি প্রাইমারি ও নলুয়াবাগী মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত রাস্তাটি নিয়ে আমরা উপজেলার বিভিন্ন সভায় কথা বলেছি। এখন পর্যন্ত কোন কাজ হয়নি। গত কয়েকদিন আগে আমাদের এলাকার প্রতিমন্ত্রীর এক সভায় আমি ছিলাম। সেখানে বিষয়টি উল্লেখ করেছি। তিনি আমাদেরকে আশ^াস দিয়েছেন যে রাস্তাটি পাকাকরণ করা হবে।’
রাস্তাটি প্রসঙ্গে এলজিইডির গলাচিপা উপজেলা প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘গোলখালী ইউনিয়নের নলুয়াবাগী ঢালীর বাজার থেকে নলুয়াবাগী মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত রাস্তাটির অবস্থা খুবই খারাপ। আমরা পাকাকরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তালিকা পাঠিয়েছি। আশাকরি সুফল পাবো।’
মন্তব্য করুন