পটুয়াখালীর গলাচিপায় তিন বছর ধরে ওমানে অবস্থানরত এক প্রবাসীর স্ত্রীর সন্তান প্রসবের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ওই নারী আপন শ^শুরের অনৈতিক সম্পর্কের ফলে গর্ভবতী হয়ে পড়েন। একই সঙ্গে জন্ম নেওয়া নবজাতক বিক্রির অভিযোগে গলাচিপা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ রবিবার রাতে শ^শুর রুস্তুম গাজী ও লিপি বেগমকে গ্রেপ্তার করে। গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জিল্লুর রহমান শিশুটি উদ্ধার ও দুজনের গ্রেফতারের কথা নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় শ^শুর, শ্বাশুড়ি, ননদসহ মোট ৫ জনের নাম উল্লেখ করে আরো অজ্ঞাতনামার বিরদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের আটখালী গ্রামের ওমান প্রবাসীর স্ত্রী তার শ^শুর মো. রুস্তুম গাজীর (৬০) বাড়িতে বসবাস করতেন। তার স্বামী প্রবাসে থাকাকালীন সুযোগ নিয়ে ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি রাতে শ্বশুর রুস্তুম গাজী প্রথমবার অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে বিভিন্ন সময় তাকে ইচ্ছের বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হলেও অভিযুক্তরা তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। এমনকি গর্ভপাত করানোরও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ২৬ মার্চ ভুক্তভোগীকে চিকিৎসার কথা বলে গলাচিপা পৌর এলাকার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়, যেখানে সিজারের মাধ্যমে তার একটি পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। কিন্তু পরদিন সকালে নবজাতক শিশুটিকে ভুক্তভোগীর অজান্তে লিপি বেগমসহ অজ্ঞাতনামারা অপহরণ করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে গলাচিপা থানা অফিসার ইনচার্জ মো. জিল্লুর রহমান বলেন, আমরা ভিক্টিমের বক্তব্য ও এজাহার অনুযায়ী মূল ধর্ষককে গ্রেপ্তার করি এবং ভিক্টিমের বাচ্চা অপহরণের সাথে জড়িত মূল হোতা এবং এর সাথে জড়িত একজনকে গ্রেফতার করি। তার দেওয়া তথ্য মতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে বাচ্চা উদ্ধার করি। তাদেরকে আমরা এখন জেলহাজতে প্রেরণ করতেছি। মামলাটি তদন্তাধীন আছে, তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন