গলাচিপা উপজেলার চরকাজল ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান মোল্লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছে পরিষদের ১২ ইউপি সদস্য। রবিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ অনাস্থা পত্র জমা দেওয়া হয়। তবে এ অনাস্থা প্রস্তাবের পেছনে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার এবং এক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের ইন্ধন রয়েছে বলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বরং উল্টো ইউপি সদস্যদের প্রতি সাধারণ জেলেদের মধ্যে রয়েছে নানান অভিযোগ। সম্প্রতি বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান মোল্লার অনিয়মের বিরুদ্ধে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলী আহম্মেদ আকন ইউএনও’র কাছে অভিযোগ করেন বলে স্বাীকার করেন।
অপরদিকে এ তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে দেখা যায়, ওই ইউনিয়নের মেম্বরদের নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে রয়েছে নানান ধরণের ক্ষোভ। এদিকে ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানের দ্বন্দ্বের খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে অনুসন্ধানে এমন তথ্য বেড় হয়ে এসেছে।
অপরদিকে অনাস্থা প্রস্তাবের একটি কপি হাতে পাওয়ার কথা স্বীকার করে অফিস খোলার পরই আবেদনের বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুজর মো. ইজাজুল হক।
চরকাজল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জেলে ফারজানা বলেন, আমার কাছ থেকে আমিনুল মেম্বর জেলে চাউল দেওয়ার কথা কইয়া দেড় হাজার টাহা নিছে। কিন্তু আমারে মেম্বার চাউল দেয় নাই। মেম্বররা আমার মতো অনেকের কাছ থেকেই এমন টাহা নিয়া চাউল দেয় নাই। কিছু কইলে কয় চেয়ারম্যান চাউল দেয় না।
ওই ইউনিয়নের জেলে শাহ আলম বলেন, আমাগো এলাকার মেম্বররা ঠিক মতো কাম করে না। হেরা ষড়যন্ত্র নিয়াই থাকে। মে¤র^রা গরিবেরতা খাইতে না পাইরা ষড়যন্ত্র কইররাই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা দিছে।
এ বিষয়ে চরকাজল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মনির দফাদার বলেন, আমরা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সকল মেম্বররা মিলে অনাস্থা দিছি। জেলে চাল ১৩ শ জনকে দেওয়ার কথা। কিন্তু চেয়ারম্যান ৪০ কেজি করে ২৬ শ মানুষকে দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, চেয়ারম্যানের চালের পরিবহণ বাবদ সরকারি যে খরচ তাও চেয়ারম্যানের কাছে। সে আমাদের সম্মানি ভাতা থেকে ১১ শ থেকে ১২ শ টাকা করে কেটে নিয়ে চালের পরিবহণ খরচ নিতো। চেয়ারম্যান প্রতি মেম্বরের কাছ থেকে ১০টি করে নামের বরাদ্দ নিয়ে নিতো। তিনি আরো বলেন, আমি ১ শ থেকে দেড় শ টাকা করে নিয়েছি। জেলেদের চালের জন্য যে টাকা নিয়েছি সে টাকা ইউপি সচিবের কাছে জমা দিয়েছি। এ জন্যই অনাস্থা দিয়েছি।
চরকাজল ইউপির প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মহিবুল্লাহ বলেন, আমার কাছে মনির মেম্বরসহ কোন মেম্বরই জেলেদের কাছ থেকে নেওয়া কোন ধরণের টাকা জমা দেয় নাই।
এ বিষয়ে চরকাজল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলী আহম্মেদ বলেন, কিছু দিন আগে বর্তমান চেয়ারম্যান জেলেদের চালে মেম্বরদের মাধ্যমে ১৩ শ ৬০ নামের ১৫০ টাকা করে খরচার টাকার কথা বলে টাকা উঠিয়েছে। এতো টাকা তো পরিবহণ খরচ লাগে না। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে আবেদন দিয়েছিলাম। বিভিন্ন সময় মেম্বরদের সম্মানি ভাতা থেকেও টাকা কেটে নিছে। এসব বিষয় নিয়ে আমি ইউএনওর কাছে অভিযোগ দিয়েছিলাম। আমার সাথে তার কোন বিরোধ নাই। যা দেখার প্রশাসন দেখবে।
এ বিষয়ে চরকাজল ইউপি চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান মোল্লা বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশ মতো আমি মাস্টার রোলের মাধ্যমেই চাল বিতরণ করেছি। চাল বিতরণের সময় ট্যাগ অফিসারও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বররা অফিস নির্দেশ অমান্য করে টোকেনের মাধ্যমে চাল বিতরণ করতে চেয়েছে। যা আমি করিনি। এতে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে আমার বিরুদ্ধে অনাস্থা দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, চরকাজল ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বর মনির দফাদার আর রিকোজ হাওলাদার কোন আইন কানুন মানতে চান না। তারা তাদের ইচ্ছে মতো চাল বিতরণ করতে চেয়েছে। পরে ওই মেম্বররা সাবেক এক ইউনিয়ন পরিষদের চাল আত্মসাতের অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত সাবেক চেয়ারম্যানের যোগসাজসে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার করতে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, চরকাজল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ওই ইউপি সদস্যদের একটি অনাস্থার আবেদন অফিসে জমা দিয়েছে। গতকাল (রবিবার) আমি ডিসি অফিসে মিটিং থাকায় দেখতে পারিনি। বন্ধের পর অফিস খুললে এ বিষয়ে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন