পটুয়াখালী গলাচিপা উপজেলার চরকাজল ইউনিয়নে একটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র অবস্থিত। প্রায় ৩০ বছর আগে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হলেও আজ পর্যন্ত সেখানে কোনো এমবিবিএস চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করেননি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবলের অভাবে রোগীরা সঠিক সময়ে চিকিৎসা পাচ্ছেননা, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ইমরান ঢালী বলেন, “আমরা ছোটবেলা থেকেই এই কেন্দ্রটি দেখে আসছি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এখনো পর্যন্ত এখানে কোনো এমবিবিএস ডাক্তারকে বসতে দেখিনি। এখন এটি একটি পরিত্যক্ত ভবনে পরিণত হয়েছে। ফলে আমাদের চিকিৎসার জন্য উপজেলা কিংবা জেলা শহরে যেতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দুইদিক থেকেই ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। আবার যাদের টাকা আছে তারা যেতে পারে, যাদের টাকা নেই তারা যেতে পারেনা। আমাদের এই চর এলাকায় অসহায় পরিবারের সংখ্যাই বেশি।”
তিনি দুঃখভারাক্রান্ত কণ্ঠে আরও বলেন, “আমরা এমন একটি অঞ্চলে বসবাস করি যেখানে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র আছে, অনেক রোগিও আছে, কিন্তু ডাক্তার নেই।”
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা দ্রুত কেন্দ্রটি পুনরুজ্জীবিত করার দাবি জানান এবং সেখানে একজন এমবিবিএস চিকিৎসকের নিয়মিত বসার অনুরোধ জানান। পাশাপাশি তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধও করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবাবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, “এই প্রতিষ্ঠানটি পরিবার পরিকল্পনার। সেখানে তাদের কোনো স্টাফ নেই। আমাদের একজন ডাক্তার সেখানে পোস্টেড আছেন, কিন্তু অন্য কোনো কর্মী কর্মরত না থাকায় সেখানে সেবা দেওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই। কারণ শুধু একজন ডাক্তার থাকলেই প্রতিষ্ঠান চালানো সম্ভব নয়, প্রয়োজনীয় স্টাফ না থাকায় সেবাও দেওয়া যাচ্ছে না। অন্যান্য সব পদই পরিবার পরিকল্পনার আওতাভুক্ত, কিন্তু সেখানে তাদের কোনো স্টাফই নেই।”
এ বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনা সহকারী (পরিসংখ্যানবিদ) মো. শাহিন খান দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “চরকাজলের এই প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণের প্রায় ৩০ বছর হলেও বর্তমানে জনবলশূন্য থাকার কারণেই এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এখানে আমাদের কোনো অফিসারও নেই। কলাপাড়ার যে ফ্যামিলি প্ল্যানিং অফিসার, তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এই উপজেলায় আছেন। আমাদের এই ফ্যামিলি প্ল্যানিং এর অফিসারও সংকট, পুরো জেলায় আছে ২ জন মাত্র। বর্তমানে চরকাজলের এই প্রতিষ্ঠানের চারটি পদের একটিতেও কোনো কর্মী কর্মরত নেই। এমনকি কোনো নিরাপত্তা প্রহরীও নেই। তবে পানপট্টির মিথিলা রানিকে (এফডব্লিউভি) অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে চরকাজলের জন্য। তিনি সপ্তাহে একদিন সেখানে গিয়ে দায়িত্ব পালন করেন।”
তিনি আরও বলেন, “যেহেতু জনবল সংকট রয়েছে, এটি তো আসলে রাষ্ট্রীয় সমস্যা। তবে কিছুদিন আগে শূন্য পদের একটি তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে, তাই আশা করা যাচ্ছে জনবল নিয়োগ হতে পারে।”
মন্তব্য করুন