‘পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড মা বোনদেরকে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে আমাদের গ্রামাঞ্চলে নারী সদস্যদের উপর পুরুষ সদস্যরা নানানভাবে অনেক ক্ষেত্রে নির্যাতন করে থাকে। জিম্মি করে থাকে। যৌতুকের জন্য কিংবা শ্বশুর বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য নানান অজুহাত দেন। ফ্যামিলি কার্ড আমাদের নারীদের জন্য সেইভ গার্ড। পরিশ্রমী নারী যারা আছেন, এই আড়াই হাজার টাকা জমিয়ে একটা পরিবারকে স্বাবলম্বীর দিকে নিয়ে যেতে পারবেন।’ শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের বুধবারিয়া বাজারে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, ‘আজকের এই বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলে চরবিশ্বাস ও চরকাজল ইউনিয়ন নদী বেষ্টিত একটা এলাকা। আমাদের যে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা এসেছেন তারা প্রশাসনিক বিভিন্ন জায়গায় যাবেন। এ এলাকার করুণ অবস্থা। তারাও দেখে গেছেন একদিকে যেমন ভালো। আর এ এলাকায় প্রথমবারের মতো এরকম একটা বড় প্রোগ্রাম যেখানে সুবিধাভোগী থেকে শুরু করে নেতৃত্ব পর্যায় এবং সরকারি কর্মকর্তারা এসেছেন। প্রথম দিকে গলাচিপা এবং দশমিনার দুইটা ইউনিয়নের তালিকা দিয়েছিলাম। অগ্রাধিকার অনুযায়ী ২০টি জেলায় আজ উদ্বোধন হচ্ছে। আজ দশমিনারটা বাদ পড়েছে। দ্রুতই দশমিনাসহ সকল ইউনিয়নেই ফ্যামেলি কার্ড বিতরণ শুরু হবে।’
গলাচিপা উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে গলাচিপায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী। আজ (শনিবার) চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে একযোগে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের দ্বিতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ (বিপিএম সেবা), জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক এসএম শাহজাদা, গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুজর মো. ইজাজুল হক, সহকারী পুলিশ সুপার (গলাচিপা ও দশমিনা সার্কেল) আসাদুজ্জামান, গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা, জেলা যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. শিপলু খান, গলাচিপা উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক মো. হাফিজুর রহমান, জেলা যুব অধিকার পরিষদের সিনিয়র সহসভাপতি মো. মহিবুল্লাহ এনিম প্রমুখ।
প্রতিন্ত্রী নুরুল হক বলেন, ‘আমার নিজের লোকের সুবিধা অসুবিধার চেয়ে প্রকৃত যারা অসুবিধায় আছেন, কষ্টের মধ্যে আছেন সেই সমস্ত মানুষকে সহায়তা করা সরকারের এ ফ্যামিলি কার্ডের লক্ষ্য। নির্বাচনের সময় অনেকেই আমাদের ডিস্টার্ব করেছে। কিন্তু আমরা সেটা বিবেচনায় নেই নাই। রাজনৈতিক বিবেচনায় আমরা এ কার্ড দেই না। আশা করি সরকারি যেসকল সামাজিক সুরক্ষা কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রবাসী কার্ড সবাই পাবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করার জন্য আমাদের এখানে বেশ কয়েকটি খাল খননের প্রকল্প আছে। এখানে যারা খাল খননের সাথে জড়িত থাকবেন আপনারা শতভাগ কাজ করবেন। বিগত দিনে অনেকেই অল্প কাজ করে সব সাবার করে দিয়েছেন। সরকারি টাকায় খাল খনন হচ্ছে, স্কুল হচ্ছে, ব্রিজ হচ্ছে, রাস্তা হচ্ছে। আপনারা সচেতন নাগরিক হিসেবে দেখবেন এগুলো মানসম্পন্নভাবে হচ্ছে কি না। আগামী দুই বছরের মধ্যে গলাচিপা-দশমিনার রাস্তাঘাটের জন্য ব্যাপক কাজ করতে পারবো।’
জানা গেছে, ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’ এ শ্লোগান সামনে রেখে নারীরর ‘ক্ষমতায়ন’ নিশ্চিত করতে পরিবারের মায়ের নামে কার্ড ইস্যু করার মাধ্যমে সম্পদের উপর নারীর নিয়ন্ত্রণ ও সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড সরকারের একটি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি। যার মাধ্যমে হতদরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের প্রধান নারীর ব্যাংক একাউন্টে প্রতিমাসে সরাসরি নগদ অর্থ প্রদান করা হয়। পাইলটিং প্রোগ্রামে গলাচিপা উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ চরবিশ্বাস ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের (চরবাংলা) ৮০৮ জনকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হয়।
মন্তব্য করুন