শিশু শিক্ষার্থী রামিসা হত্যার বিচার এবং সারাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে পটুয়াখালীর গলাচিপায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টায় গলাচিপা সরকারি কলেজ মাঠের পশ্চিম পাশে গলাচিপা দারুল কুরআন নুরানী মাদরাসার আয়োজনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মাদরাসাটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের গলাচিপা উপজেলা প্রতিনিধি মাওলানা মো. মাহমুদুল হাসান, গলাচিপা উপজেলা ইমাম পরিষদের দপ্তর সম্পাদক হাফেজ মাওলানা মো. জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
এছাড়াও শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, শিশু রামিসার মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড পুরো সমাজকে নাড়িয়ে দিয়েছে। নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতা, ধর্ষণ ও হত্যার মতো নৃশংস ঘটনা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সমাবেশে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধীদের দ্রুত বিচার কার্যকর করা এবং সমাজে মানবিক মূল্যবোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ সময় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী উম্মে তাইয়েবা প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি খোলা চিঠি পাঠ করেন। চিঠিতে বলা হয়, “আজ আমার বুকটা কান্নায় ফেটে যাচ্ছে। আমার মতোই ছোট নিষ্পাপ রামিসাকে আমাদের মাঝ থেকে নির্মমভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। সে আর কোনোদিন তার মায়ের কোলে ফিরবে না, কোনোদিন স্কুলে যাবে না।”
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি তো আমাদের দেশের সব শিশুর অভিভাবক। রামিসার কী দোষ ছিল? আজ তার বাবা-মায়ের কান্না দেখে আমাদের নিজেদের মায়ের চোখও পানিতে ভরে যাচ্ছে। আমরা তো শুধু একটু নিরাপদে বাঁচতে চেয়েছিলাম।”
শিক্ষার্থীরা চিঠিতে রামিসা হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে বলেন, “এমন কঠোর শাস্তি দিন, যেন আর কোনো অপরাধী কোনো শিশুর দিকে হাত বাড়ানোর সাহস না পায়। আমরা আর কোনো বোনকে এভাবে হারাতে চাই না। আমরা দ্রুত বিচার চাই।”
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য করুন