বগুড়া সদরের বারপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামে জমি অধিগ্রহণের নোটিশ সংশোধন ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতের দাবিতে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
অভিযোগ—জমির ওয়ারিশদের নাম বাদ দিয়ে কৌশলে অন্যের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, ফলে বৈধ মালিকেরা অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন না।
সরাসরি সরেজমিন প্রতিবেদন, আবেদনপত্র ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি হুকুম দখল শাখা সূত্রে জানা যায়—বারপুর মৌজার জেএল নং ৬৭, সিএস খতিয়ান ২৬২, এমআরআর ৪৪৫, ডিপি ৮৮৫, মাঠ ১৩২০৯, খারিজী হিসাব নং ১০৬৪০ এবং কেস নং ৭৩৪৬(৯-১)২৩-২৪–এর অধীনে ভিটেজমির মোট পনে পাঁচ শতাংশ (.৪৭৫) জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত অংশ পনে দুই শতাংশ (.১৭৫) এবং ব্যক্তিগত দাবীকৃত অংশ এক শতাংশ ও ৩ শতাংশ জমি নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী হাজী গোফ্ফার মণ্ডলের পুত্র আরজু মণ্ডল অভিযোগ করে জানান— “নোটিশে পূর্বে আমার নাম সম্পূর্ণভাবে অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু নোটিশ পাওয়ার পর আমার ভগ্নিপতি বেলাল উদ্দিনকে কাগজপত্র ঠিক করতে মৌখিক অনুমতি দিলে তিনি চালাকি করে ৮(৩)(ক) ধারার নোটিশ থেকে আমার নাম বাদ দিয়ে শহিদুল ইসলামের নাম যুক্ত করেন। অথচ প্রকৃত দাগে আমার, বেলাল উদ্দিন ও শহিদুল—তিনজনেরই বৈধ অংশ রয়েছে।
আরজু মণ্ডল আরও বলেন, জমির স্বত্ব ও দখলের প্রমাণস্বরূপ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ জেলা প্রশাসক বরাবর আপত্তি দায়ের করা হয়েছে। তার দাবি— “সুষ্ঠু তদন্ত করে আমাকে, আমেনা বেগম ও জাহাঙ্গীর আলমের নাম পুনরায় ৮(৩)(ক) ধারার নোটিশে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।”
অন্যদিকে অভিযুক্ত বেলাল উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান— “অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তিতে আমাদের কোনো অংশ নেই। তাদের দাবি অযৌক্তিক। কাগজপত্রে যদি তারা জমির মালিক প্রমাণিত হয়, তাহলে অধিগ্রহণের টাকা তাদের প্রাপ্য অংশ অনুযায়ী আমরা দিয়ে দেব।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বারপুর দক্ষিণপাড়ায় তৈরি হয়েছে তীব্র অসন্তোষ। ভুক্তভোগী পরিবার জেলা প্রশাসকের কাছে সঠিক তদন্ত ও ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন